পুজোর আগে এক টাকাও খরচ না করে ভোল বদলান বাড়ির, বাতিল জিনিসেই ফিরুক বাঙালিয়ানা
একটু বুদ্ধি খাটালে আর সামান্য সৃজনশীলতার ব্যবহার করলে পুরনো জিনিস দিয়েও, একদম অন্যরকম ভাবে ঘরকে সাজিয়ে তোলা যায়।
ঘর সাজানোর জন্য সব সময় নতুন আসবাব বা নতুন জিনিস কেনার প্রয়োজন হয় না। একটু বুদ্ধি খাটালে আর সামান্য সৃজনশীলতার ব্যবহার করলে পুরনো জিনিস দিয়েও, একদম অন্যরকম ভাবে ঘরকে সাজিয়ে তোলা যায়। যা ঘরের চেহারায় আনে বড়সড় পরিবর্তন।
বাড়িতে পড়ে থাকা কাচের বোতল বা চিনা মাটির কাপ পরিষ্কার করে, তাতে পছন্দসই রং করে, নকশা এঁকে ফেলুন। তাহলেই সেটা আপনি ফুলদানি হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন।
এ ছাড়াও বাইরে পাটের দড়ি বা রঙিন ফিতে জড়িয়ে দিলে আরও সুন্দর দেখাবে।
মা-ঠাকুমার পুরনো শাড়ি না ফেলে দিয়ে, সেটা দিয়ে তৈরি করতে পারেন টেবিলের আচ্ছাদন, বালিশের আচ্ছাদন আরও কত কী। এতে ঘরের সাজে আসবে পুরনো দিনের ছোঁয়া।
আরও পড়ুন:
ঘরের একটা কোণে, ছোট টুল বা টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখতে পারেন, কয়েকটি বই সঙ্গে কিছু গাছ, ফুলদানি। আসবে বাঙালিয়ানা ছোঁয়া।
উৎসবের আমেজ আনতে ঘরের কোনও মানানসই জায়গায় একটি থালাতে ফুল সঙ্গে কয়েকটি সাধারণ মাটির প্রদীপ সাজিয়ে রাখতে পারেন।
বাড়িতে থাকা পুরনো আয়নার চারপাশে কলকা করতে পারেন। অথবা ফুল দিয়েও সাজাতে পারেন।
বাড়িতে থাকা পুরনো কাঁসার থালায় ইচ্ছে মতো ছবি বা নকশা এঁকে দেওয়ালে সাজিয়ে দিতে পারেন।
আরও পড়ুন:
এইভাবে একাধিক বিভিন্ন আকারের থালাতে এঁকে দেওয়ালে সাজিয়ে দিলে খুব সুন্দর লাগবে। আর ঘরের সাজেও আসবে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া।
বাড়িতে যদি ঘরের ভিতরে রাখার গাছ থাকে, তবে সেই টবগুলিতে রং করতে পারেন।
বেশ কয়েকটি গাছ একসঙ্গে একটি জায়গায় রাখতে পারেন বা সিঁড়ির প্রতিটি ধাপে রাখতে পারেন।
পুরনো ওড়না দিয়ে তৈরি করতে পারেন জানালা বা আয়নার পর্দা।
বাড়িতে থাকা পুরনো বাক্স বা সিন্দুক ভালভাবে পরিষ্কার করে, কোণের টেবিল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তার উপর সুন্দর একটি কাপড় বা যদি নকশি কাঁথা থাকে, সেটা পেতে কিছু বই, ফুলদানি বা গাছ রাখলে বেশ মানাবে।
ঘরে দুর্গা পুজোর আমেজ আনতে চাইলে, যদি বাড়িতে কোনও মা দুর্গার ছবি বা মাটির পুতুল থাকে, তবে সেটা বার করে ফেলুন। একটি ছোট টেবিলে কলকা আঁকা কাপড় পেতে, কিছু ফুল, প্রদীপ, ফুলদানি, গাছ দিয়ে সাজিয়ে, সেখানে মা দুর্গার ছবি বা মাটির পুতুলটি রাখুন। তাহলেই আপনার উৎসবের কোণ তৈরি।
সবশেষে, ভাল করে ঘর সাজাতে এই উপায়গুলির সাহায্য নিলে, নামমাত্র খরচে বা বিনা খরচে, সামান্য পরিশ্রমে আপনার ঘর মেতে উঠবে বাঙালিয়ানায় ভরা উৎসবের আনন্দে। এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।