নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাঁকে! কলকাতার এই কবরখানায় নিশিরাতে আজও নাকি দেখা মেলে উইলিয়মের আত্মার?
লোয়ার সার্কুলার রোড সেমিট্রিকে ঘিরে বহু অলৌকিক কাহিনি শোনা যায়। কেউ কেউ বলেন, আজও এক সাহেবের আত্মা ঘুরে বেড়ায় কবরখানার অন্দরে। গা ছমছমে অভিজ্ঞতার সাক্ষী বহু পর্যটক।
কলকাতার গোরস্থানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল লোয়ার সার্কুলার রোড সেমিট্রি। শোনা যায়, লোয়ার সার্কুলার রোডের কবরস্থানে নাকি ভূত রয়েছে। বহু অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী এই সমাধিক্ষেত্র।
পার্ক স্ট্রিট এবং এজেসি বোস রোডের সংযোগ স্থলে, মল্লিক বাজারের অদূরে নীরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই সমাধিক্ষেত্র। ১৮৪০ সালে এখানে প্রথম সমাধি দেওয়া শুরু হয়। আজও এই সমাধিক্ষেত্রে মৃত মানুষদের সমাধিস্থ করা হয়।
এই সমাধিক্ষেত্রে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন উইলিয়াম হে ম্যাকনটন। ব্রিটিশ ভারতের এই সিভিল সার্ভেন্টকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। শোনা যায়, কবরের চারপাশে তাঁর আত্মা আজও নাকি ঘুরে বেড়ায়।
ম্যাকনটনের কবরের আশেপাশের গাছগুলি নাকি প্রায়ই নড়তে থাকে। হাওয়া-বাতাস না থাকলেও গাছগুলিকে দুলতে দেখেছেন অনেকে। কেউ কেউ কারও উপস্থিতি টের পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন নানা সময়ে।
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুর পর, এখানেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। পাশাপাশি সমাধিতে শুয়ে আছেন মধুসূদন এবং হেনরিয়েটা।
আরও পড়ুন:
সমাধিস্থলে রয়েছে কবির আবক্ষ মর্মরমূর্তি। নিচে বিখ্যাত এপিটাফ— ‘দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব/ বঙ্গে! তিষ্ঠ ক্ষণকাল...’।
মল্লিক বাজারের এই কবরখানায় বেথুন সাহেব, ড্রামন্ড সাহেব, দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ; পুলিশ কর্তা উইলিয়াম ব্লেকারের সমাধি রয়েছে।
ভারতের মাটিতে ক্যুইজের প্রাণপুরুষ নিল ও’ব্রায়েনের সমাধিও রয়েছে লোয়ার সার্কুলার রোডের সমাধিক্ষেত্রে। লেসলি ক্লডিয়াস, ভেস পেজের মতো কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদেরা এখানে চিরঘুমে আচ্ছন্ন আছেন। এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।