পুজোর সেরা কে? বড় বড় সংস্থার বিচার, পুরস্কার আর প্রতিযোগিতার ভিড়ে এ বার সেই সিদ্ধান্ত নিল ফুটপাথের শিশুরাই। পুজোর সকালে শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ঘুরে সেরাদের হাতে পুরস্কার তুলে দিল বাগবাজার ফুটপাথ স্কুল ও অশোক হল স্কুলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি শিশুদের বিচারকমণ্ডলী। সিংহী পার্ক, মুদিয়ালি ও চক্রবেড়িয়া—এই তিন পুজোয় গিয়ে পুরস্কার তুলে দেয় তারা। পুজোর বিচারক হওয়ার এমন অভিজ্ঞতা পথশিশুদের কাছে একেবারেই নতুন।
সিংহী পার্কের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিচার ছিল একেবারে নিখাদ। তাদের পুজো শিশুদের পছন্দ হয়েছে, আর তাতেই খুশি উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, এই পুরস্কার অন্য সব স্বীকৃতির থেকে আলাদা।
শুধু পুজোর বিচার নয়, শিশুদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটেছে ছাপার অক্ষরেও। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী অমাত্রা দে-র উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে ‘পকেট শারদীয়া’। আকারে ছোট্ট এই পত্রিকার লেখক, শিল্পী, ফ্যাশন-প্রতিবেদক, এমনকি সম্পাদকও ছোটরা। নিজের জমানো টাকা দিয়ে এই উদ্যোগ শুরু করেছিল অমাত্রা। মোবাইলের নেশায় ডুবে থাকার এই সময়ে মেয়ের এমন ভাবনাকে বাস্তব করতে পাশে দাঁড়িয়েছেন তার মা-বাবাও। পরে এগিয়ে আসেন বাগবাজার ফুটপাথ স্কুলের শিক্ষক এবং দক্ষিণ কলকাতার একটি স্কুলও।
তৃতীয়বার প্রকাশিত হল ‘পকেট শারদীয়া’। সদ্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়া তিন শিশুশিল্পীর সাক্ষাৎকার যেমন রয়েছে, তেমনই সম্পাদকীয়তে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অমাত্রার কথায়, “সবাই যে সমান, সবার যে সৃজনশীলতা আছে, সেই জন্যই সবাই মিলে পকেট শারদীয়া।” পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিশুদের নিজেদের মতো করে ভাবতে শেখানো—দুই উদ্যোগের সুর যেন সেখানেই মিলে যায়। পঞ্চমীর সকালে তাই একসঙ্গে দুটো কাজ হল। এক দিকে পুজোর সেরা বাছল ফুটপাথের শিশুরা, অন্য দিকে তাদেরই মতো ছোটদের সৃষ্টিতে ভরে উঠল ‘পকেট শারদীয়া’।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।