বাংলা জুড়ে উৎসবের মরশুম। যে পথে উমা ফিরেছেন, সে পথেই ঘরে আসছেন শ্যামা। শহর থেকে গ্রামে তুঙ্গে তাঁর বন্দনার প্রস্তুতি। তবে, এ বছরের দুর্গাপুজো রাজ্যবাসীর কাছে এক কালো অধ্যায়। চোরবাগানে প্রতিমা দর্শনে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জন সহনাগরিকের। তাই, কালীপুজোর আগে থেকেই তৎপর প্রশাসন। নৈহাটিতে বড়মার পুজো দেখতে যাওয়ার আগে জেনে নিন কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তাদের তরফে।
বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় কালীপুজো নৈহাটির বড়মা। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তের ঢল নামে এই পুজোতে। সেই বিপুল ভিড় সামলাতে এ বছর আগেভাগেই তৎপর প্রশাসন। বড়মার মন্দির সংলগ্ন এলাকায় করা হচ্ছে ২২টি ব্যারিকেড। বড়মার মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকার ভিড় নিয়ন্ত্রণেই বিশেষ এই ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। এতগুলো ব্যারিকেড থাকলে একসঙ্গে অনেক মানুষের ঢুকে পড়ার আশঙ্কা কম বলে মনে করছে প্রশাসন।
এ ছাড়াও নৈহাটি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে পুজোর ক'দিন। তাই কালীপুজোর সময়ে যাঁরা নৈহাটিতে ঠাকুর দেখতে যাবেন, তাঁরা ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে কোনও ট্রেন ধরতে পারবেন না। পাশাপাশি, যে সমস্ত পুণ্যার্থীরা দণ্ডী কাটবেন, তাঁদেরও যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তাই পুরসভাকে অবিলম্বে গঙ্গা থেকে মন্দিরের রাস্তা সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বছর ১০৩ বছরে পড়ল নৈহাটির বড়মার পুজো। ৭ নভেম্বর, শনিবার রাত বারোটা থেকে দণ্ডি কাটা শুরু হবে। ৮ নভেম্বর, রবিবার সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত দণ্ডি কাটা চলবে। ৮ নভেম্বর, রবিবার রাত বারোটায় শুরু হবে পুজো। পুষ্পাঞ্জলি হবে রাত দেড়টায়। কালীপুজোর রাতে আড়াইটে থেকে শুরু হবে ভোগপ্রসাদ বিতরণ। পরদিন, ৯ তারিখ, সোমবার বেলা এগারোটা পর্যন্ত প্রসাদ বিতরণ চলবে। ১২ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বড়মার নিরঞ্জন পুজো ও দধিকর্মা হবে। ওই দিন বেলা দুটোয় বরণ। বিকেল চারটেয় বড়মার নিরঞ্জন শোভাযাত্রা শুরু হবে।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।