শুধু সিঁদুর খেলায় নয়, পুজোর আয়োজন থেকে ঢাকের বাদ্যি—সবেতেই মহিলাদের উপস্থিতি। গোদরেজ সেভেন রেসিডেন্টস সেলিব্রেশন ফোরামের দ্বিতীয় বর্ষের দুর্গাপুজোয় মায়ের আরাধনার দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন মহিলারাই। পুজোর পরিচালনা থেকে পুরোহিতের কাজ, ঢাক বাজানো—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকা। ব্যতিক্রম শুধু অসুর, যিনি পুরুষ।
এই পুজোর ভাবনায় রয়েছে মাতৃশক্তির আরাধনা। বৃহদারণ্যক উপনিষদের ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’ শ্লোকের ভাবনা থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছে পুজোর থিম। মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য বিদুষী মৈত্রেয়ীর প্রশ্নের উত্তরে এই দর্শনের ব্যাখ্যা করেছিলেন। এই ভাবনা অনুসারে, জগতের কারণস্বরূপ ব্রহ্ম আমাদের বাইরের কোনও সত্তা নন, তিনি আমাদের মধ্যেই বিরাজমান। সেই পরিশুদ্ধ সত্তার প্রকাশ ঘটে মাতৃকা শক্তির মাধ্যমে; পরমাত্মা প্রকাশিত হন জীবাত্মার রূপে।
এই মাতৃকা শক্তির আবাহনেই সমাজকে আরও সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলার প্রয়াস উদ্যোক্তাদের। প্রকৃতি ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে। পুজোর ভাবনা থেকে আয়োজন—সবেতেই নারীশক্তির পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে চেয়েছেন তাঁরা।
আবাসনের কমিটির পুরুষ সদস্য শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের আবাসনে সত্যিই মাতৃপক্ষ। পুজোয় সংখ্যালঘু হয়ে এবং মহিলা সদস্যদের পরিচালনায় কাজ করে আমরা গর্ব অনুভব করছি।’
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।