পুজো মানেই চার পাশে উৎসব, প্যান্ডেলের আলো, ঠাকুর দেখা, আরও কত কী! আর সেই সঙ্গেই থাকে মনের মতো মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখার ব্যস্ততা। ফোনের পাশাপাশি অনেকেই পুজোর আগে নতুন ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা করেন। আবার এমনও অনেকে রয়েছেন, যাঁরা ক্যামেরাতেই ছবি তুলতে চান। বর্তমানে ছবি তোলার পাশাপাশি ভিডিয়ো তৈরির আগ্রহ বাড়ছে। ফলে চাহিদা বাড়ছে হাইব্রিড ক্যামেরার। কিন্তু ক্যামেরা কিনতে গেলে কি সবচেয়ে দামি মডেলের দিকেই ছুটতে হবে?
পেশাদার চিত্রগ্রাহক জয়দীপ চৌধুরীর মতে, দামি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ক্যামেরা কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই আসল। নতুনদের জন্য ক্যামেরা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখা উচিত, সেই পরামর্শই দিলেন তিনি।
জয়দীপের মতে, দামি ক্যামেরা মানেই ভাল, এমনটা নয়। শুরুর দিকেই খুব দামি ক্যামেরার দিকে যেতে বারণ করছেন তিনি। কারণ, যিনি ছবিটা তুলছেন তিনি ক্রিয়েটর। ক্যামেরা শুধুমাত্র একটা ডিভাইস তাঁর কাছে।
জয়দীপের কথায়, “আপনি যদি আমার হাতে দামি তুলি আর দামি ক্যানভাস দেন, আমি তো মোনালিসা আঁকতে পারব না। ওটা দ্য ভিঞ্চিই পেরেছিলেন। বিষয়টা সে রকমই। যাঁরা ক্যামেরা কিনতে চাইছেন, তাঁদের বলব ডিএসএলআর কিনবেন না। সব সময়ে মিররলেস ক্যামেরা নিন।”
এ ক্ষেত্রে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এখন সমাজমাধ্যম বা মানুষ ভিডিয়োই দেখতে চাইছেন বেশি। সুতরাং এমন ক্যামেরা কিনতে হবে, যা ছবি এবং ভিডিয়ো— দুই ক্ষেত্রেই (হাইব্রিড ক্যামেরা) ভাল কাজ করে।
ভিডিয়ো এবং ছবি তোলা শুরু করার জন্য ‘সোনি জ়েডভি-ই১০’ এবং ‘ক্যানন ইওএস আর৫০ ভি’ এই দু’টি ক্যামেরা বেশ ভাল। দুই ক্যামেরাতেই ছবি এবং ভিডিয়োর মান যথেষ্ট উন্নত।
এ ছাড়া চাই একটা ভাল মানের মাইক্রোফোন। কারণ দৃশ্য এবং শব্দ, দুয়ের মান ভাল হলে তবেই তা একসঙ্গে ভাল মানের ভিডিয়ো তৈরি করে।
শুধু মেগাপিক্সেল নয়, ক্যামেরায় সেন্সরের মাপ কত, সেটাও জানা জরুরি। সেন্সর যত বড় হবে, ছবির মান হবে তত ভাল। এ ছাড়াও কম আলোয় ভাল ছবি তোলা যায় বড় সেন্সরের সাহায্যে।
জয়দীপ মনে করিয়ে দিচ্ছেন— ভাল ছবি বা ভিডিয়ো তুলতে হলে ক্যামেরার বিষয়ে পড়াশোনা থাকা জরুরি। মনে রাখবেন, এক্ষেত্রে ক্যামেরা নয়, আপনিই মূল চরিত্র।
পুজোর মণ্ডপ, আলোর সাজ, প্রতিমার মুখ থেকে শুরু করে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত— সবই এখন ফ্রেমবন্দি করতে চান অনেকেই। তাই ক্যামেরা কেনার সময়ে অনেকগুলি বিষয়ের দিকে ঠিকমতো নজর দিতে হবে। কারণ পুজোর স্মৃতি শুধু ভাল ছবিতে নয়, ভাল শব্দ এবং ভাল ভিডিয়োর মধ্যেও ধরা থাকে। নতুনদের ক্ষেত্রে তাই প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই একটি ভাল হাইব্রিড ক্যামেরাই হয়ে উঠতে পারে পুজোর মুহূর্ত ধরে রাখার সেরা সঙ্গী।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।