পুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, মণ্ডপে ঘোরা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর সেই মুহূর্ত ধরে রাখার জন্য একের পর এক ছবি ও ভিডিয়ো। আর সেই ছবি-ভিডিয়ো তুলতে পুজোর আগে অনেকেই নতুন ফোন কেনার পরিকল্পনা করেন। ভাল ক্যামেরার ফোন বলতে অনেকেরই মনে করেন অনেক দামি ফোনের কথা। কিন্তু ভাল ছবি বা ভিডিয়োর জন্য কি সত্যিই এতটা খরচ করা জরুরি? এই বিষয় নিয়েই আনন্দবাজারের তরফে যোগাযোগ করা হয় চিত্রগ্রাহক জয়দীপ চৌধুরীর সঙ্গে। কী বললেন তিনি? তাঁর মতে, শুধু বেশি দাম বা বেশি মেগাপিক্সেল নয়, ফোনের ক্যামেরা বাছার ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা দরকার।
তিনি জানান, ভাল ফোনের কথা বলতেই সবার একটা প্রবণতা রয়েছে একটা আই ফোন নেওয়ার। এমন একটা ফোন নেওয়ার যেটার দাম প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি। দামি ফোন হলেই তাতে ভাল ছবি বা ভিডিও উঠবে, তিনি এমনটা মনে করেন না।
তিনি আরও জানান, সবাই এখন মেগাপিক্সেলের পিছনে দৌড়য়। বড় মেগাপিক্সেলের মোবাইল ক্যামেরা হলেই ভাল ছবি উঠবে তা নয়। বিশেষত্ব মোবাইল কোম্পানিগুলো, ক্রেতাদের এই ভাবেই ফাঁদে ফেলে।
মোটামুটি ৫০ হাজারের মধ্যে স্যামসাং, ওপোর অনেক ভাল ভাল ফোন আছে। সেগুলো কেনা যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন জয়দীপ। একটা ফোনের অনেক লেন্স রয়েছে এমন ফোন নিতে বারণ করছেন তিনি। দুটো থেকে তিনটে লেন্স যথেষ্ট। এই তিনটি লেন্স ১এক্স, ২এক্স এবং ০.৫এক্স যথেষ্ট ভাল ছবি বা ভিডিয়োর জন্য। এগুলি মধ্যে সবচেয়ে ভাল হল ১এক্স লেন্সটা। ফোন নেওয়ার সময় দেখে নিতে হবে এই ১এক্স এর জন্য যে সেন্সর রয়েছে সেটার মাপ কত। সেন্সর যত বড় হবে ছবির মান তত ভালো হবে। এছাড়াও কম আলোয় ভাল ছবি তোলা যায় বড় সেন্সরের সাহায্যে।
বিশেষ করে নেট প্রভাবীদের জন্য তিনি জানান, এখন যেহেতু ভিডিয়োর চাহিদা অনেক বেশি তাই ভাল অডিয়োর জন্য লাগবে ভাল মাইক্রফোন। কিছু সংস্থা যেমন গ্রেনাড়ো, পোর্ট্রনিক্স বা ডিজিটেক এইগুলোতে আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে ভাল মাইক্রোফোন পাওয়া যায়। এইগুলির ব্যবহার করে তাঁরা তৈরি করতে পারেন অনেক ভাল মানের ভিডিয়ো।
পুজোয় প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে নতুন ফোন কিনতে গেলে শুধু ব্র্যান্ড, দাম বা মেগাপিক্সেলের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। ভাল ক্যামেরার পাশাপাশি বড় সেন্সর, প্রয়োজনীয় লেন্স এবং ভাল অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাও দেখে নেওয়া জরুরি। আর ফোনের সঙ্গে একটি সাশ্রয়ী ভাল মাইক্রোফোন থাকলে ছবি তোলার পাশাপাশি পুজোর ভিডিয়ো কনটেন্ট তৈরির কাজ আরও সহজ হবে। অর্থাৎ, পুজোর স্মৃতি ধরে রাখতে দামি ফোনের চেয়ে প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই সঠিক ফোন বেছে নেওয়াটাই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।
এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।