মুঠোফোনে আর কত! পুজোয় দেদার ছবি তুলতে কম বাজেটে কোন ক্যামেরাগুলি কিনবেন?
পুজোর ভিড়, আলোর ঝলকানি, প্রতিমার সূক্ষ্ম কাজ কিংবা রাতের প্যান্ডেলের ছবি আরও সুন্দরভাবে ক্যামেরাবন্দি করতে চাইলে একটি ভাল ক্যামেরাই হতে পারে আপনার সবচেয়ে ভাল বন্ধু।
পুজোর আর মাত্র ক’টা দিন বাকি।পুজোর পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ দিন গুলির পরিকল্পনাও বিশেষ। এই বিশেষ মুহূর্তগুলো ধরে রাখার জন্য ক্যামেরার বিকল্প নেই।
তবে ক্যামেরা কিনতে গেলেই যে লাখ টাকা খরচ করতে হবে, এমনটা নয়। ছবি তোলার পাশাপাশি ভিডিও তৈরির কাজেও ব্যবহার করা যায় এমন বেশ কিছু কম বাজেটের হাইব্রিড ক্যামেরার খোঁজ রইল এই প্রতিবেদনে।
প্রায় ৪৫-৫০ হাজার টাকার বাজেটের মধ্যে ‘ক্যানন ইওএস আর১০০’ কিনতে পারেন। এপিএস-সি সেন্সরের এই আয়নাবিহীন (মিরর লেস) ক্যামেরার সঙ্গে ১৮-৪৫ মিলিমিটার কিট লেন্স পাওয়া যায়।
ছবি এবং ভিডিও এই দুই ক্ষেত্রেই যাঁরা ক্যামেরা ব্যবহার করতে চান, তাঁদের জন্য ‘প্যানাসনিক লুমিক্স জি৮৫’ হতে পারে আদর্শ।
আরও পড়ুন:
পুজোর সময় ভিড়ের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে কেঁপে যায়। সে ক্ষেত্রে এর ছবি স্থির রাখার প্রযুক্তি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।
কম বাজেটে আয়নাবিহীন (মিরর লেস) ক্যামেরা চাইলে ‘সোনি আলফা এ৫১০০’-ও একটি বিকল্প হতে পারে। ২৪.৩ মেগাপিক্সেল এপিএস-সি সেন্সর এবং ১৬-৫০ মিলিমিটার কিট লেন্স এটির সঙ্গে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
ছবি তোলার পাশাপাশি যারা ভিডিও তৈরি করতে ভালবাসেন, তাঁদের নজরে থাকতে পারে ‘সোনি জেডভি-ই১০’।
পুজোর ভিডিও, প্যান্ডেল ঘোরার ভিডিও, কিংবা সমাজমাধ্যমের জন্য ছোট ভিডিও তৈরিতে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
বাজেট কিছুটা বাড়াতে পারলে ‘ক্যানন ইওএস আর৫০’ একটি খবুই ভাল ক্যামেরা। ‘ক্যানন ইওএস আর১০০’ - এর তুলনায় এটি আরও আধুনিক এবং সহজে ব্যবহার করা যায়। এপিএস-সি সেন্সর, উন্নত স্বয়ংক্রিয় ফোকাস রয়েছে।
পুজোর সময়ে চলমান মানুষের ছবি, প্যান্ডেলের মুহূর্ত এবং ভিডিও, সব ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে যাঁরা ভবিষ্যতে নিয়মিত ছবি তুলতে চান, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ। হাত কাঁপলেও ক্যামেরা স্থিরতা অনেক বেশি হওয়ার কারণে ছবি ভাল ওঠে।
ভিডিও এবং ছবি তোলার জন্য ‘নিকন জেড৩০’ নিতে পারেন। তবে এই মডেলটি বাজেটের কিছুটা বাইরে যেতে পারে।এর বাজারমূল্য আনুমানিক ৫৫ হাজার টাকা।
শুধু ক্যামেরার মেগাপিক্সেল দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। ভাল ছবি তুলতে গেলে স্বয়ংক্রিয় ফোকাস, কম আলোয় ছবি তোলার ক্ষমতা, ছবি স্থির রাখার ব্যবস্থা, ব্যাটারির স্থায়িত্ব এবং লেন্সের সহজলভ্যতার মতো বিষয়গুলি জরুরী।
বিশেষ করে রাতের প্যান্ডেল বা আলোর মধ্যে ছবি তুলতে গেলে ভাল সেন্সর এবং উপযুক্ত লেন্স দরকার।
আবার ভিডিও তৈরি করার ক্ষেত্রে ফ্লিপ-আউট স্ক্রিন অর্থাৎ বাইরের দিকে ঘোরানো যায় এমন পর্দা, মাইক্রোফোন ব্যবহারের সুবিধা এবং ছবি স্থির রাখার প্রযুক্তি প্রয়োজন।
তাই পুজোর আগে ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা থাকলে, আপনি ক্যামেরাটি মূলত কী কাজে ব্যবহার করবেন এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ছবি বা ভিডিও তৈরি করতে চান, সেটিও মাথায় রাখা জরুরি।
বাজেট অনুযায়ী সঠিক হাইব্রিড ক্যামেরা বেছে নিতে পারলে পুজোর স্মৃতি ধরে রাখার পাশাপাশি শখের ছবি তোলা ইচ্ছেও পূরণ হবে। এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।