নেটওয়ার্ক নেই, হঠাৎ নিভল আলো? পুজোর পাহাড় সফরে ব্যাগে এই ক’টি গ্যাজেট কিন্তু রাখতেই হবে
পাহাড়ের বেশির ভাগ জায়গায় ফোনের সিগন্যাল পাওয়া যায় না। এই অফলাইন অ্যাপ আপনার ফোনে থাকলে পাহাড়ের রাস্তায় পথ খুঁজতে কোনও সমস্যা হবে না। এই অ্যাপে রয়েছে অফলাইন মানচিত্র।
এ বার পুজোর ছুটিতে পাহাড় যাবেন ঠিক করেছেন? সে তো খুব ভাল কথা। এ দিকে নানা পরিস্থিতি বা সমস্যার কথা ভেবে খানিকটা ভাবনাও হচ্ছে। এ সব ক্ষেত্রে কিছু গ্যাজেট কিন্তু বিপদে পড়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। পাহাড়ে গেলে তবে কী কী গ্যাজেট সঙ্গে রাখবেন? রইল তার তালিকা —
পাওয়ার ব্যাঙ্ক: পাহাড়ে যাওয়ার আগে একটু ভাল মানের পাওয়ার ব্যাঙ্ক অবশ্যই কিনবেন। পাহাড়ে যে কোনও সময়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন এই পাওয়ার ব্যাঙ্ক আপনাকে সাহায্য করবে ফোন চালু রাখতে। সোলার পাওয়ার ব্যাঙ্ক কিনতে পারলে সবথেকে ভাল হয়। তবে অবশ্যই পাওয়ার ব্যাঙ্ক আগে থেকে চার্জ করে রাখবেন।
হেডল্যাম্প বা ফ্ল্যাশলাইট: যেহেতু পাহাড়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সমস্যা থাকেই, তাই এই জিনিসটা সব সময়ে নিজের সঙ্গে রাখা উচিত। তা ছাড়াও ট্রেকিংয়ের সময়ে কিংবা রাতে পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটাচলার ক্ষেত্রে হেডল্যাম্প ভীষণ প্রয়োজনীয়।
ন্যাভিগেশন গ্যাজেট: পাহাড়ের বেশির ভাগ জায়গায় ফোনের সিগন্যাল পাওয়া যায় না। এই অফলাইন অ্যাপ আপনার ফোনে থাকলে পাহাড়ের রাস্তায় পথ খুঁজতে কোনও সমস্যা হবে না। এই অ্যাপে রয়েছে অফলাইন মানচিত্র। নেটওয়ার্ক-বিহীন অঞ্চলে সে-ই হতে পারে পথের দিশারী
আরও পড়ুন:
পোর্টেবল ওয়াটার ফিল্টার বা পিউরিফায়ার: পাহাড়ের জল অনেকেরই সহ্য হয় না। অনেক সময়ে মিনারেল ওয়াটার পাওয়া যায় না ধারেকাছে। ট্রেকিংয়ের সময়ে ঝর্নার জলও খেতে হয় অনেক ক্ষেত্রে। তাই জল পরিস্রুত করার জন্য একটি পোর্টেবল ওয়াটার ফিল্টার বা পিউরিফায়ার সঙ্গে রাখতে পারেন। জলবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে এটি খুবই উপকারী।
ক্যামেরা: আপনি ছবি তুলতে ভালবাসলে অবশ্যই একটা ক্যামেরা নিজের সঙ্গে রাখবেন। মুঠোফোন যতই থাকুক, ক্যামেরার ছবির মান পাহাড়ের ছবি আরও সুন্দর এবং স্পষ্ট করে তুলবে। কোনও রকম বিপদে পড়লে তাতে তোলা ছবি কাজেও লাগতে পারে।
স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকার: শরীরের অবস্থা জানতে খুবই উপকারী এই গ্যাজেট। হাঁটার দূরত্ব, হৃদস্পন্দন, উচ্চতা, ক্যালোরি সবই মেপে নিতে পারবেন। তা ছাড়া, অনেক ঘড়িতে জিপিএস থাকে, যা পথের হদিশ পেতে সহায়তা করে।
হ্যান্ডহেল্ড জিপিএস ডিভাইস: পাহাড়ি দুর্গম পথ চিনে চলতে এই যন্ত্রটি খুবই উপকারী।
আরও পড়ুন:
ওয়্যারলেস ব্লুটুথ স্পিকার: পাহাড়ি পথে চলতে চলতে গান শোনা তো বটেই, দলছুট হয়ে একলা বিপদে পড়লে নিজের অবস্থান জানান দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি কাজে দেবে। সৌজন্যে তার জোরালো আওয়াজ।
অ্যাকশন ক্যামেরা: পাহাড়ি দুর্গম পথ কিংবা পাহাড়ের বিভিন্ন মুহূর্তবন্দী করতে খুবই উপযোগী এই গ্যাজেট।
সেলফি স্টিক: ঠান্ডায় হাত কাঁপার ভয় ছাড়াই এই লাঠির সাহায্যে একা বা সকলে মিলে নিজস্বী তোলা সম্ভব।
ট্রাইপড: ক্যামেরায় বা মুঠোফোনে দীর্ঘক্ষণ ধরে কোনও ভিডিও তোলার সময়ে ট্রাইপড খুব উপযোগী। ফটো বা ভিডিও কোনও ভাবেই কেঁপে যায় না ট্রাইপডের সাহায্যে তুললে।
মাল্টি-পোর্ট চার্জার: একসঙ্গে অনেকগুলো ফোন বা গ্যাজেট চার্জ করার জন্য খুবই উপযোগী এই মাল্টি-পোর্ট চার্জার।
পোর্টেবল ফোন মনিটর/ছোট ডিসপ্লে: ফোনের সঙ্গে এই মনিটর সংযুক্ত করে খুব সহজেই ছবি বা ভিডিও পাঠানো যায়। অনেক ছবি বা ভিডিও করে যদি ফোনের স্টোরেজ ভর্তি হয়ে যায়, তখন এই মনিটর খুবই সহায়ক হবে।
ইলেকট্রিক থার্মোমিটার: তাপমাত্রা মাপার জন্য খুব উপযোগী এই ডিভাইসটি। এই থার্মোমিটার ব্যবহার করে সঠিক তাপমাত্রা জানা যায় এবং ঠান্ডা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। ( এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)