পুজোর ছুটিতে পাহাড়-সমুদ্রের চেনা গন্তব্যে নয়, বরং ইতিহাসের হাত ধরে হাঁটতে চান? শহরের কোলাহল থেকে দূরে, জঙ্গলের নির্জন পথে হারিয়ে যেতে চান? তা হলে আপনার ঠিকানা হতে পারে চিলকিগড়।
এক দিকে কয়েকশো বছরের পুরনো কনক দুর্গামন্দির, অন্য দিকে রাজবাড়ি। তার মাঝেই সবুজে ঘেরা পথ আর ডুলুং নদীর শব্দ। ইতিহাস আর প্রকৃতির এমন মেলবন্ধন খুব সহজে মেলে না।
চিলকিগড় শুধু বেড়ানোর জায়গা নয়, এই অঞ্চলের ইতিহাসেরও সাক্ষী। বর্গি আক্রমণের স্মৃতি থেকে চুয়াড় বিদ্রোহ—জঙ্গলমহলের অতীতের নানা অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে এই এলাকার সঙ্গে। ফলে এখানে বেড়াতে গেলে শুধু ছবি তুলে ফিরে আসা নয়, জানারও অনেক কিছু থাকে।
ইতিহাসের টানে কোথায় যাবেন?
চিলকিগড়ের অন্যতম আকর্ষণ প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো কনক দুর্গামন্দির। মন্দির ঘিরে রয়েছে নানা ইতিহাস ও লোককথা। তার কাছেই রয়েছে চিলকিগড় রাজবাড়ি। প্রাচীন স্থাপত্য আর চারপাশের সবুজ মিলিয়ে জায়গাটির পরিবেশই আলাদা।
ইতিহাস ঘোরা শেষ হলে চলে যেতে পারেন ডুলুং নদীর ধারে। নদীর শান্ত জল, চারপাশের সবুজ আর নির্জন পরিবেশ শহুরে ব্যস্ততা থেকে একেবারে অন্য জগতে নিয়ে যাবে। জঙ্গল ঘেরা এলাকায় দেখা মিলবে নানা প্রাচীন গাছ ও ভেষজ উদ্ভিদেরও।
কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে চিলকিগড় প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। গাড়িতে গেলে সময় লাগতে পারে প্রায় চার ঘণ্টা। ট্রেনে ঝাড়গ্রাম পৌঁছে সেখান থেকে বাস, অটো বা গাড়ি ভাড়া করেও চিলকিগড় যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন?
চিলকিগড়ে রয়েছে বেশ কিছু হোমস্টে। সাধ্যের মধ্যে থাকা এবং খাবারের ব্যবস্থাও পাওয়া যায়। তাই এক দিনের তাড়াহুড়ো না করে দু’দিন হাতে নিয়ে ঘুরলে জায়গাটাকে ভাল ভাবে উপভোগ করা যাবে।
পুজোর ছুটিতে ইতিহাসের গল্প শুনতে শুনতে জঙ্গলের পথে হাঁটা, নদীর ধারে বসে সময় কাটানো আর শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু নিঃশ্বাস নেওয়া—সব একসঙ্গে চাইলে চিলকিগড় হতে পারে আপনার এবারের অন্য রকম ঠিকানা।
এই প্রতিবেদনটি "আনন্দ উৎসব " ফিচারের একটি অংশ।