পুজোয় মনটা পাহাড় পাহাড় করে অনেকেরই। বুক ভরে শ্বাস নিতে কেউ ছোটেন চেনা ঠিকানায়। কেউ বা অচেনা-অজানা জায়গার খোঁজে খানাতল্লাশিতে নামেন। আপনি কি দ্বিতীয় দ্বলে পড়েন? তবে এ বার পুজোয় রংলি রংলিয়া বা রুংলি রুংলিওট হতেই পারে আপনার গন্তব্য।
এ রাজ্যের উত্তর প্রান্তে ছোট্ট একটি জায়গা। প্রতি পদে প্রকৃতি যেন তার সৌন্দর্য ও কোমলতার ডালি উপুড় করে দিয়েছে। এখনও এখানে পর্যটকদের বিশেষ আনাগোনা নেই বললেই চলে।
রংলি রংলিয়া বা রুংলি রুংলিওট নামকরণের নেপথ্যে লুকিয়ে এক ইতিহাস। লেপচা ভাষায় 'রংলি রংলিয়া' কথাটির অর্থ হল ‘এর চেয়ে আগে আর নয়’ কিংবা ‘এ পর্যন্তই, আর এগোনোর দরকার নেই’। স্থানীয়দের মতামত অনুযায়ী, বহু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আদর্শ ও শান্ত স্থানের খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে এই পাহাড়ি উপত্যকায় এসে পৌঁছন। এখানকার স্বর্গীয় সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশ তাঁকে এতটাই মুগ্ধ করে যে, তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, "রংলি রংলিয়া!" অর্থাৎ, শান্তির খোঁজে এর চেয়ে আগে আর যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
কী ভাবে যাবেন?
নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে শেয়ার বা একার গাড়িতে পৌঁছে যান রংলি রংলিয়া বা রুংলি রুংলিওট। সেবক এবং কালিম্পংয়ের রাস্তার চোখজুড়োনো সৌন্দর্য দেখতে দেখতে, তিস্তাকে সাক্ষী রেখে পৌঁছে যাবেন সেখানে।
কোথায় যেতে পারেন?
প্রকৃতি এবং পাহাড়প্রেমী মানুষের জন্য এই জায়গা হতে পারে দু'দিনের ছুটির আদর্শ ঠিকানা। নির্জন পরিবেশ এবং মনোমুগ্ধকর পাহাড়ি সৌন্দর্য দেখতে দেখতেই দু'দিন অনায়াসে কেটে যাবে। ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করলে একটি গাড়ি ভাড়া করে চলে যেতে পারেন রুংলি রুংলিওট চা বাগান, জিরো পয়েন্ট, তাকদাহ, তিনচুলে, লামাহাট্টা এবং বড়া মংওয়া ও ছোটা মংওয়া।
থাকার ব্যবস্থা
খুব বেশি না হলেও কয়েকটি হোমস্টে এখানে অনায়াসেই পাওয়া যাবে। সাধ্যের মধ্যেই সাধ পূরণ করতে পারবেন। পকেটকেও কষ্ট দিতে হবে না।
তবে আর কী! এই পুজোর ছুটিতে নাগরিক কোলাহল ছেড়ে শান্তির ঠিকানা হোক না রুংলি রুংলিওট।
এই প্রতিবেদনটি "আনন্দ উৎসব " ফিচারের একটি অংশ।