তোমার ছুটি আমার নয়— এই শব্দবন্ধ বন্ধুমহলে বেশ বিখ্যাত। ধরুন, আপনার প্রিয় বন্ধুটি পুজোয় চার দিন ছুটি পেয়ে বসে থাকলেও আপনি পেয়েছেন মোটে দু'দিন। এর মধ্যে একদিন ঠাকুর দেখা আর অন্যদিক যদি বেরিয়ে পড়া যায় কলকাতার কাছে-পিঠের এই জায়গাগুলিতে? মন্দ হবে না। সকাল সকাল বেরিয়ে রাতেই ফিরে আসুন। যাবেন কোথায়?
চন্দননগর
জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য প্রসিদ্ধ একদা ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগর। হুগলি নদীর ধারে এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ফরাসি শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস। চন্দননগর স্ট্র্যান্ড ধরে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যাবে পুরনো স্থাপত্যের নানা নিদর্শন। রয়েছে জাদুঘর, সেক্রেড হার্ট গির্জা, পাটালবাড়ির মতো ঐতিহাসিক জায়গাও। সঙ্গীকে নিয়ে নদীর হাওয়া খেতে খেতে গরম চা'য়ে চুমুক— এই পুজোয় মন্দ কী? কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্বও প্রায় ৩৭ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দফতর।
দেউলটি
পুজোর কোলাহল থেকে একটু দূরে গিয়ে যদি নদীর ধারে শান্ত একটা দিন কাটাতে চান, দেউলটি হতে পারে পছন্দ। রূপনারায়ণের পাড়ের এই জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিও। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ঘুরে দেখা যায়।
দেউলটির মূল আকর্ষণপরিবেশ। সবুজ, পুকুর, নদীর হাওয়া আর ধীর গতির জীবন— কোলাহল ভাল না লাগলে ঘুরে দেখতে পারেন ছায়াঘেরা দেউলটি।
বাওয়ালি
পুজোর একদিনের ছুটিতে একটু রাজকীয় আমেজ চান? চলে যেতে পারেন বাওয়ালি। তারকাদের ভীষণ পছন্দের জায়গা। কলকাতা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত বাওয়ালির অন্যতম আকর্ষণ ৩০০ বছরের পুরনো রাজবাড়ি। পুরনো জমিদারি স্থাপত্য, বড় এলাকা এবং চারপাশের গ্রামবাংলার পরিবেশ মিলিয়ে জমজমাট এই জায়গা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বজবজ বা নোদাখালি এলাকায় এই রাজবাড়ি। কলকাতা থেকে গাড়িতে যেতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা মতো।
পূর্বস্থলী
পূর্ব বর্ধমান জেলায় অবস্থিত একটি অন্যতম পরিচিত শহর পূর্বস্থলী। পূর্বস্থলী মূলত তার বিশাল অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বা চুপির চরের জন্য বিখ্যাত। শীতকালে এখানেই আনাগোনা হয় পরিযায়ী পাখিদের। নৌকাবিহারেরও বন্দোবস্থ রয়েছে। নবদ্বীপ থেকে এর দূরত্ব খুব বেশি নয়। ফিরতি পথে ঘুরে আসতে পারেন। শাড়ি ভালবাসলে ঘুরে আসতে পারন সমুদ্রগড়। তাঁতিদের হাতে বোনা জামদানি, বালুচরী, টাঙ্গাইল থেকে চোখ ফেরাতে পারবেন না।
বাঁশবেড়িয়া
পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় অবস্থিত এই শহরটিকে ইতিহাস ছুঁয়ে রয়েছে। এখানকার হংসেশ্বরী মন্দিরের স্থাপত্যই মূল আকর্ষণ।১৮১৪ সালে রানি শঙ্করী দেবী এই মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ করেন। মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলী সাধারণ ভারতীয় মন্দিরের মতো নয়, বরং দূর থেকে দেখলে রাশিয়ার সেন্ট বাসিল ক্যাথেড্রালের মতো মনে হয়। মন্দিরের পাশেই রয়েছে অনন্ত বাসুদেব মন্দিরও, যার দেওয়ালে রয়েছে চোখধাঁধানো টেরাকোটার কাজ। রয়েছে বাঁশবেড়িয়া রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষও। বাঁশবেড়িয়ার একদম কাছেই গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর মিলনস্থল বা ত্রিবেণী সংগম অবস্থিত। ঘুরে আসতে ভুলবেন না।
পুজোর ছুটি মানেই যে দূরের পাহাড় বা সমুদ্রের উদ্দেশে রওনা দিতে হবে, তা নয়। হাতে যদি থাকে মাত্র একটা দিন, কলকাতার আশপাশের এই জায়গাগুলিই হয়ে উঠতে পারে ছোট্ট ছুটির বড় পাওনা। তবে পুজোর সময়ে রাস্তায় অতিরিক্ত ভিড় থাকতে পারে, তাই দিনের সফর হলে যতটা সম্ভব সকাল সকাল বেরিয়ে পড়াই ভাল।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।