অনেক সময়েই দেখা যায় কিছু বছর আগে কারও হার্টে স্টেন্ট বসেছিল, তার আবার স্ট্রোক হয়েছে। কারও বা হার্টের বাইপাস সার্জারি হয়েছিল, দেখা যায় তার পায়ের ধমনীর ব্লকেজের কারণে পায়ে খুব ব্যথা শুরু হয়েছে। এর কারণ হতে পারে অ্যাথেরোসক্লেরোসিস। কী এই ‘অ্যাথেরোসক্লেরোসিস’?
সম্প্রতি আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে ‘মণিপাল হাসপাতাল’, ব্রডওয়ের কার্ডিয়োথোরাসিক এবং ভাস্কুলার সার্জারির বিভাগীয় প্রধান, চিকিৎসক সুজয় চট্টোপাধ্যায় এই রোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, “এই রোগটি আসলে একটি ধমনীর রোগ, যাকে সিস্টেমিক ভাস্কুলার রোগ বলা হয়। শরীরের যত ধমনী আছে সেই ধমনীতেই এই রোগ আক্রমণ করে। ধমনীর ভিতরকার দেওয়ালের মধ্যে আস্তে আস্তে একটি পদার্থ জমতে থাকে, তাকে বলা হয় প্লাক।”
বিশদে জানতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
কিন্তু এটি কী ভাবে শরীরে ক্ষতি করতে পারে?
এই পদার্থটি জমতে জমতে ধমনীর মধ্যে রক্ত চলাচলের পথ কমিয়ে দেয়। এর ফলে যে অঙ্গের রক্ত চলাচলের ওই ধমনী দায়ী, সেখানে রক্ত চলাচল কমে যায় এবং অঙ্গটি কাজ কম করে।
ধমনী ব্লকেজের দু’রকমের উপসর্গ দেখা দেয়। সুজয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, “একটি হল ‘ক্রনিক’, যেখানে আস্তে আস্তে রক্ত কমে যাওয়ার জন্য ব্যথা হয় এবং তার কাজ ধীরে ধীরে কমে যাওয়া। অপর একটি হল ‘অ্যাকিউট’, যেখানে হঠাৎ করেই রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হার্টের ক্ষেত্রে সেটি হার্ট অ্যাটাক, মাথার ক্ষেত্রে সেরিব্রাল স্ট্রোক, পায়ের ক্ষেত্রে সেটি ‘অ্যাকিউট লিম্ব ইস্কিমিয়া’।”
এই অ্যাথেরোসক্লেরোসিস হওয়ার কারণ কী? কী ভাবেই বা এই রোগকে প্রতিরোধ করা যায়?
কিছু ঝুঁকি থাকে যা কোনও ভাবেই পরিবর্তন করা যায় না, যেমন -
- বয়স
- লিঙ্গ, পুরুষদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা মহিলাদের থেকে বেশি থাকে
- জাতি, পশ্চিমের দেশের তুলনায় ভারতে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
- পারিবারিক ইতিহাস।
আবার কিছু ঝুঁকি আছে যেগুলিকে পরিবর্তন করা যায়-
- প্রথমত, রক্তচাপ, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস’ হতে পারে, তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত।
- দ্বিতীয়ত, ডায়াবিটিসও এই রোগের কারণ হতে পারে।
- তৃতীয়ত, শরীরে লিপিডের মাত্রা কতটা আছে। তার জন্য লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করা প্রয়োজন।
- চতুর্থত, তামাকজাত দ্রব্যের প্রতি আসক্তি, যা আপনার অজান্তেই বিপদ ডেকে আনতে পারে।
- পঞ্চমত, খাদ্যাভ্যাস। বেশি তেলে ভাজা অথবা অতিরিক্ত ফ্যাট-জাতীয় খাবার শরীরের জন্য খারাপ। তার জন্য সুষম খাদ্যাভাস গড়ে তুলতে হবে।
- ষষ্ঠত, জীবনশৈলী। সুস্থ থাকতে শরীরকে সক্রিয় রাখা ভীষণভাবে প্রয়োজন।
- সপ্তমত, ফ্যাট ডিস্ট্রিবিউশন, এর জন্য শরীরের বিএমআই ঠিক রাখা দরকার।
- সর্বশেষ, মানসিক অবস্থা। মানসিক চাপের মধ্যে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের ‘অ্যাথেরোসক্লেরোসিস’ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
‘অ্যাথেরোসক্লেরোসিস’ শরীরের যে কোনও অংশের ধমনীকেই আক্রমণ করতে পারে। তাই এই রোগ শরীরে ক্ষতি করার আগেই এটিকে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।
এই প্রতিবেদনটি ‘মণিপাল হাসপাতাল’-এর সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।