অফিসের কাজের চাপ, অনিয়মিত খাওয়া আর শারীরচর্চার অভাব— আধুনিক জীবনের এই চেনা ছবিই কি ডেকে আনছে অকালমৃত্যু? একসময় মনে করা হত, হার্টের রোগ মানেই বার্ধক্যের দোসর। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ছবিটা বদলেছে। কারণ, যুবসমাজও আজ হৃদ্রোগের শিকার। হৃদ্রোগ নিয়ে বেড়ে চলা সেই ঝুঁকির সময়েই,নতুন করে দিশা দেখালেন মণিপাল হাসপাতাল সল্টলেকের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞরা। আলোচনা করলেন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, প্রফেসর, চিকিৎসক রঞ্জন কুমার শর্মা এবং ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজিস্ট, কনসালট্যান্ট, চিকিৎসক রাজা নাগ।
কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
কার্ডিয়োলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট চিকিৎসক রঞ্জন কুমার শর্মার মতে, এর মূলে রয়েছে অতিরিক্ত নুন ও ফ্যাটযুক্ত খাবার। সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অলস জীবনযাপন। দোসর হয়েছে পরিবেশ দূষণ।
বিশদে জানতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণকে সাধারণ ‘গ্যাস-অম্বল’ ভেবে এড়িয়ে যান রোগীরা। এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক জানাচ্ছেন, “যাঁদের পরিবারে হার্টের অসুখের ইতিহাস আছে বা যাঁদের সুগার-কোলেস্টেরল বেশি, তাঁদের বিপদ অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।”
২০ পেরোলেই কিন্তু সাবধান!
ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজিস্ট, চিকিৎসক রাজা নাগ দিলেন আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি জানান, বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বাড়ছে।
তাঁর পরামর্শ, “২০ বছর বয়স হলেই অন্তত একবার রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ব্লাড সুগার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। আর যাঁরা ধূমপান করেন বা ওবেসিটির শিকার, ৩০ পার হলেই তাঁদের প্রতি বছর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।”
নিঃশব্দ ঘাতক কারা?
ওবেসিটি, ডায়াবিটিস এবং কোলেস্টেরল— এই তিনটিকে 'নিঃশব্দ ঘাতক' বলছেন চিকিৎসকেরা। ডায়াবিটিস রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, আর বাড়তি ওজন সমস্ত সমস্যার মূল। তাই সুস্থ থাকতে কেবল শারীরচর্চাই নয়, প্রয়োজন সঠিক সময়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং তামাক বর্জন।
এই প্রতিবেদনটি ‘মণিপাল হাসপাতাল’-এর সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।