চিকিৎসা বিজ্ঞানের দুনিয়ায় অত্যন্ত দ্রুত নিজের জায়গা পাকা করে নিচ্ছে ‘অপ্টোমেট্রি’। গত ২০-২৫ বছর আগের ছবিটার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, এই পেশায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে অপ্টোমেট্রিস্টদের স্রেফ চিকিৎসকদের সহকারী হিসেবেই দেখা হতো, আজ কিন্তু পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। এখন এই পাঠ্যক্রমে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, অকুলার প্যাথলজি, ফার্মাকোলজি, মাইক্রোবায়োলজি থেকে শুরু করে অপটিক্স, ভিসুয়াল সায়েন্স, কন্ট্যাক্ট লেন্স, বাইনোকুলার ভিশন, লো-ভিশন রিহ্যাবিলিটেশন এবং পেডিয়াট্রিক অপ্টোমেট্রির মতো আধুনিক বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য একটাই— পড়ুয়ারা যাতে যুক্তি দিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারেন, নৈতিকভাবে দায়িত্বশীল হন এবং গবেষণামূলক মানসিকতা গড়ে তুলতে পারেন। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, ক্লিনিকাল দক্ষতা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল যত্ন নেওয়ার শিক্ষাই এই পাঠ্যক্রমের মূল ভিত্তি।
স্বাভাবিকভাবেই ‘ব্যাচেলর অফ অপ্টোমেট্রি’ পাস করার পর কর্মসংস্থানের সুযোগও এখন বিপুল এবং বৈচিত্র্যময়। মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল, কন্ট্যাক্ট লেন্স ইন্ডাস্ট্রি, অফথালমিক ক্লিনিক, বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা, ভিশন সেন্টার, অপটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এবং রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের মতো জায়গায় এই পেশাদারদের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
আজকের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ‘প্রিভেন্টিভ মেডিসিন’ বা রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি ভীষণ চর্চায় রয়েছে। আর ঠিক এখানেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন অপ্টোমেট্রিস্টরা। আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এই কোর্সটির প্রাসঙ্গিকতা আজ প্রশ্নাতীত। চোখের নানাবিধ সমস্যা প্রথম অবস্থাতেই চিহ্নিত করা, রোগ নির্ণয় এবং তার সঠিক ব্যবস্থাপনার খুঁটিনাটি শেখানো হয় অপ্টোমেট্রিস্টদের। যার ফলে মানুষের দৃষ্টিহীনতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। একটু খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, এই পেশা শুধু চোখের পরীক্ষার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনস্বাস্থ্য, সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সহানুভূতির সঙ্গে রোগীর যত্ন নেওয়ার কাজেও সমানভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তা ছাড়া, চোখের সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন জাতীয় নীতির কারণে স্বাস্থ্য শিল্পে এই পেশার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। একজন রোগীকে সম্পূর্ণ চোখের যত্ন দিতে অফথালমোলজিস্ট, জেনারেল ফিজিশিয়ান, নিউরোলজিস্ট, পেডিয়াট্রিশিয়ান এবং রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হয় এই পেশাদারদের।
এই পাঠ্যক্রমের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ। যেখানে পড়ুয়ারা ইমেজ টেকনোলজি, উন্নত অফথালমিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি এবং পেশেন্ট কাউন্সেলিংয়ের মতো বিষয়গুলিতে একেবারে হাতে-কলমে শিক্ষা পান। বর্তমান লাইফস্টাইলে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের নানান সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। ডিজিটাল যুগের এই নতুন জীবনযাত্রাই অপ্টোমেট্রিস্টদের আজকের দিনে অপরিহার্য করে তুলেছে।
এই আবহে সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি নিয়ে এসেছে ‘ব্যাচেলর অফ অপ্টোমেট্রি’ প্রোগ্রাম। যেখানে খুঁটিনাটি প্রশিক্ষণের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়, যাতে পড়ুয়ারা থিওরি এবং প্র্যাক্টিকাল— দু’দিক থেকেই কর্মক্ষেত্রের জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়ে উঠতে পারেন। পড়ুয়াদের ট্রেনিং এবং ডেভেলপমেন্টের জন্য রয়েছেন একঝাঁক বিশেষজ্ঞ শিক্ষক। চূড়ান্ত ইন্টারভিউয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে, নিজেদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য পড়ুয়াদের বিভিন্ন নামী সংস্থায় ইন্টার্নশিপের জন্য পাঠানো হয়। এর পাশাপাশি, এই ক্ষেত্রের লেটেস্ট টেকনোলজি এবং নিত্যনতুন পরিবর্তন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে পড়ুয়াদের বিভিন্ন সেমিনার এবং ওয়ার্কশপে যোগ দিতে উৎসাহিত করা হয়, যাতে তাঁরা সময়ের চেয়ে কখনও পিছিয়ে না পড়েন। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের এই এক্সপোজার পড়ুয়াদের কর্পোরেট জগতের উপযোগী করে তোলে। কোর্সের চলাকালীন অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন প্রজেক্ট ও অ্যাসাইনমেন্টের কাজও করতে হয় তাদের।
সব মিলিয়ে, বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি এই মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি কোর্সটি তরুণ প্রজন্মের কেরিয়ারে এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।
এই প্রতিবেদনটি ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’র সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।