হাতে সময় ৭২ ঘণ্টারও কম। তার মধ্যে ই-কেওয়াইসি না করলে, অর্থাৎ সংযোগের সঙ্গে আধার না জুড়লে আর কম দামে মিলবে না রান্নার গ্যাস। বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস বিক্রেতাদের (ডিলার) অফিসের সামনে তাই শেষ মুহূর্তে এই কাজ সারার জন্য গ্রাহকদের ভিড় উপচে পড়ছে। কখনও বৃষ্টি, কখনও রোদ মাথায় করে লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য বহু ডিলার আগামী শনি এবং রবিবার অর্থাৎ ১৫ ও ১৬ অগস্ট গ্যাসের অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে গ্যাসের আধার সংযুক্তিকরণ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ এবং ক্ষোভ। কেউ বলছেন, নাম বদল করতে ডিলাররা গাফিলতি করছেন। কারও নালিশ, তেল সংস্থার অ্যাপ ঠিকমতো কাজ করছে না। আধার যোগ আছে কিনা বা হল কিনা, বুঝতে পারছেন না কেউ কেউ। অনেকের দাবি, এই কাজ আগেই সেরে ফেলেছেন তাঁরা। তবু ফের তা করার জন্য ডিলারদের তরফে চাপ দেওয়া হচ্ছে। যদিও ডিলারদের দাবি, এই অভিযোগ ঠিক নয়।
এমনকি অভিযোগ উঠেছে, কলকাতা-সহ রাজ্যের কিছু কিছু জায়গায় গ্রাহকদের নাম পরিবর্তন-সহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের অজুহাতে বহু গ্যাস বিক্রেতা গ্রাহকদের থেকে ৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। তার বদলে গ্রাহক না চাইলেও তাঁকে জোর করে সুরক্ষা পাইপ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, বল ইত্যাদি দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ডিলারদের অভিযোগ, তেল সংস্থাগুলির চাপে এগুলি বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু তেল সংস্থাগুলির বক্তব্য, ডিলারদের কিছু বিক্রি করতে চাপ দেওয়া হয়নি।
খড়দহের এক গ্রাহকের অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে নাম বদলের জন্য ১৮০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। সল্টলেকের এক গ্রাহক দিয়েছেন ৮২০ টাকা। বেলেঘাটার এক গ্রাহককে গ্যাস ডিলার বলেছেন, নাম বদলের জন্য অগস্টের শেষে আসতে। ফর্ম শেষ। যদিও তা হওয়ার কথা নয় বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। ডিলার সংগঠন জানাচ্ছে, কোনও গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, তা হলে নির্দিষ্ট বিল নিশ্চয়ই দেওয়া হয়েছে। কারণ ছাড়া টাকা নেওয়া সম্ভব নয়। আর ফর্ম কখনওই শেষ হতে পারে না।
ইন্ডিয়ান অয়েলের তরফে রাজ্যে এলপিজির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কৃষ্ণ মোহন ঠাকুর জানান, আপাতত দৈনিক ৭৫-৭৬ হাজার গ্রাহকের আধার সংযুক্তি করা হচ্ছে। বাকি প্রায় ২৬ লক্ষ। তবে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, ১৬ অগস্টের মধ্যে অন্তত পশ্চিমবঙ্গে সকলের সংযুক্তি সম্ভব নয়। প্রায় ২২-২৩ লক্ষ গ্রাহক বাকি থেকে যাবেন।
মোটামুটি এখনও পর্যন্ত ৮৩% ইন্ডেন গ্রাহকের এই সংযুক্তি সম্ভব হয়েছে। ইন্ডেন এলপিজি ডিলার সংগঠনের পক্ষে বিজন বিশ্বাস স্পষ্টই জানান, ১৬ অগস্টের মধ্যে রাজ্যের ৮৫-৮৬ শতাংশ গ্রাহকের আধার সংযুক্তি হতে পারে। ন্যূনতম ১৩-১৪ শতাংশের হবে না। তাঁর দাবি,এই নিয়ে এখনও পর্যন্তকোনও সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়নি তেল সংস্থা কিংবা মন্ত্রকের তরফে। যা নির্দেশ আসছে সব ওয়টস্যাপে। ফলে এই সময়সীমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কেউ আদালতে গেলে সমস্যা বাড়বে। একাংশের দাবি, সরকার সম্ভবত কোনও নির্দেশিকা জারি না করেই গ্যাসের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব ততটা আধার সংযুক্তি করে নিতে চাইছে।
উল্লেখ্য, কলকাতায় এখন গৃহস্থালির গ্যাস দাম ৯৬৮ টাকা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও গ্রাহক আধার সংযুক্তি না করলে তাঁকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দরে সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম হতে পারে ১৮০০-২০০০ টাকার আশেপাশে। যদিও গোটা বিষয়টি ঘিরে ধোঁয়াশা থাকারই অভিযোগ তুলছে সব মহল।