দেশের নানা বেসরকারি সংস্থায় বিগত কয়েক মাসে চাকরি হারানোর সংখ্যা বহু। এর মধ্যে অনেকেই কাজ খুইয়েছেন এআই এক্সপার্ট না হয়ে উঠতে পারার কারণে। রয়েছে আরও নানা কারণ। চাকরিহারা প্রার্থীদের অনেকেই এখন নতুন কাজের সন্ধানে রয়েছেন। নতুন করে সিভি জমা দেওয়া, আবারও ইন্টারভিউ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই সময়ে বিশেষ কয়েকটি বিষয় নজরে রাখলে হতে পারে বাজিমাত।
১) সংস্থার সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জেনে যাওয়া: যে সংস্থায় ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন, তাদের মূল কাজ কী, বাজারে তাদের প্রতিযোগী কারা এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কোনও বড় সাফল্য বা প্রজেক্ট রয়েছে কিনা— এই বিষয়গুলি আগে থেকেই জেনে যাওয়া ইতিবাচক। ইন্টারভিউয়াররা যখন বুঝতে পারেন, তাঁদের সংস্থার সম্পর্কে বেশ তথ্য জানা রয়েছে তখন ওই চাকরিপ্রার্থীর প্রতি তাঁদের আগ্রহ এবং ভরসা অনেকটাই বেড়ে যায়।
২) সিভি: নিজের সিভিতে যে সব তথ্য দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে যেন স্পষ্ট ধারণা থাকে। আগের সংস্থায় চাকরিপ্রার্থীর কী ভূমিকা ছিল, কোন প্রজেক্টে কেমন কাজ করেছেন, তা থেকে ইন্টারভিউতে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা নেই, এমন কোনও তথ্য সিভিতে না উল্লেখ করাই ভাল।
৩) পোশাক নির্বাচন: কথায় বলে, ‘আগে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারী’। ইন্টারভিউয়ের দিন মার্জিত এবং পেশাদার পোশাক পরলেই ভাল। অনলাইন বা অফলাইন— যে মাধ্যমেই ইন্টারভিউ হোক না কেন, চাকরিপ্রার্থীর বসার ভঙ্গি বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ যেন আত্মবিশ্বাসী দেখায়। কথা বলার সময়ে ইন্টারভিউয়ারদের চোখের দিকে তাকিয়ে সোজা হয়ে বসে কথা বললে ভাল।
৪) গুছিয়ে উত্তর দেওয়ার কৌশল: শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে উত্তর না দিয়ে গভীরে যাওয়া প্রয়োজন। ইন্টারভিউতে এখন পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্ন বেশি করা হয়। যেমন— ‘কঠিন পরিস্থিতি কীভাবে সামলেছেন?’ এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় ‘স্টার’ (সিচুয়েশন, টাস্ক, অ্যাকশন, রেজ়াল্ট) পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভাল।
৫) নিজের খামতি ও পাল্টা প্রশ্ন করার প্রস্তুতি: ইন্টারভিউয়ের শেষে সাধারণত প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনার কি আমাদের কাছে কিছু জানার আছে?’ এই সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভাল। সংস্থার কাজের পরিবেশ কেমন বা ওই পদে কাজের পরিধি কেমন হবে— এই নিয়ে দু-একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করলে ভাল। আর ইন্টারভিউতে কোনও প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে বানিয়ে না বলে, বিনীত ভাবে নিজের অজ্ঞানতা স্বীকার করে নেওয়াই ভাল। মিথ্যে বা ভুল উত্তর দেওয়ার চেয়ে সততা অনেক বেশি নম্বর এনে দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
৬) নিজের সম্পর্কে বলা: বেশির ভাগ ইন্টারভিউয়ে প্রথমেই খুব সাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়— নিজের সম্বন্ধে কিছু বলা। এই পর্বে অনেকেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন বা আগে কী কী করেছেন, তা বলতে থাকেন। কিন্তু, ইন্টারভিউ আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইলে আগামী কাজ নিয়ে কথা বলাই ভাল। ইন্টারভিউ নিচ্ছেন যিনি, তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুরু করা যেতে পারে। যে পদের জন্য প্রার্থী আবেদন করেছেন, সেখানে তিনি কতটা মানানসই তা নিজেকেই জানিয়ে দিতে হবে, তবে সংযত ভাবে। ওই কাজ সম্পর্কে তিনি কী কী জানেন তা-ও বুঝিয়ে দিতে হবে।
তবে চাকরি খোঁজার মাঝেই, যদি সম্ভব হয় তা হলে এআই সংক্রান্ত স্বল্প মেয়াদি কোর্স করে নেওয়া ভাল। এখন অনলাইনে এআই-এর বিভিন্ন ধরনের কোর্স করানো হয়ে থাকে। অনেক সময়ে বিনামূল্যেও করা যায় কোর্সগুলি। তাই এই অবসরের সময়টুকু চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেকে আরও দক্ষ ও আধুনিক বাজারের উপযোগী করে তোলাই প্রার্থীর জন্য ভাল হবে।