‘‘ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি’’, ২০১১ সালেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন ইমরান খান। জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক হওয়ায় ভারতে ভোট দিতে পারেন না তিনি। তা নিয়ে হতাশা ছিল আমির খানের ভাগ্নের। বলিউড অভিনেতার নাগরিকত্ব ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে দেশ জুড়ে। আর সেই সময়েই পুরনো সাক্ষাৎকারে বলা কথাগুলিও প্রকাশ্যে আসছে আবার।
গত ১০ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে যে প্রতিবাদ মিছিল হয়, তাতে যোগ দেন ইমরান। সেখানেই তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরে অবশ্য সে দিনই তাঁদের ছেড়েও দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরই বিপাকে পড়েন জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক ইমরান। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে অভিনেতাকে দেশ ছাড়তে বলে মুম্বই পুলিশ। ভারতীয় নাগরিক না হয়েও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ায় অভিবাসন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ইমরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। মুম্বই পুলিশের মাধ্যমে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ফরেনার্স রিজিয়োনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)।
প্রতিবাদ মিছিলে আটক হয়েছিলেন অভিনেতা। ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু পুরনো সাক্ষাৎকারে ইমরান সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এই দেশের ভোটাধিকার পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ২০০৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে ইমরান জানিয়েছিলেন, তিনি আমেরিকার নাগরিক। এমনকি, আমেরিকার নির্বাচনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভোটও দিয়েছিলেন তিনি। ২০১১ সালে নিজের নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি। তাঁর আশা ছিল, খুব শীঘ্রই সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। শুধু তা-ই নয়, ভারতকে নিজের দেশ বলেই মনে করার কথাও বলেন তিনি। তাই এ দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের জন্য কিছু করাকে নিজের দায়িত্ব বলেও মনে করতেন।
তবে ভারতীয় নাগরিক না-হওয়ায় এ দেশের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল না ইমরানের। ২০১৩ সালের একটি সাক্ষাৎকারে সেই আক্ষেপের কথাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘‘ভারতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে না-পারাটা যথেষ্ট হতাশাজনক। তাই অন্য ভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করি। যদি অন্তত ২০ জনকেও ভোটদানে উৎসাহিত করতে পারি, মনে হয় আমার কিছু অবদান থাকল।’’
মা নুজ়হত খান এবং বাবা অনিল পাল যখন আমেরিকায় পড়াশোনা করছেন, তখন জন্ম হয়েছিল ইমরানের। কিন্তু মা-বাবা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে মুম্বইয়ে চলে আসেন তিনি এবং এখানেই বড় হয়ে ওঠেন। তখন তাঁর বয়স ৩ বছর। ভারতীয় শিকড় এবং দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকলেও, ইমরান বর্তমানে আমেরিকার নাগরিক এবং তাঁর ওভারসিজ় সিটিজ়েনশিপ অফ ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড রয়েছে। তবে ওসিআই কার্ড ভারতীয় নাগরিকত্বের সমতুল্য নয়। এই কার্ডের মাধ্যমে ভারতে বসবাস ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা পাওয়া গেলেও, ভারতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার মেলে না।
বলিউড অভিনেতা ইতিমধ্যেই ভারত ছাড়ার নোটিসকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা। ইমরানের আইনজীবীর দাবি, ‘ওভারসিজ় সিটিজ়েন অফ ইন্ডিয়া’ হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে কোনও আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই।