নায়িকা থেকে পার্শ্বচরিত্র, কখনও বা খলনায়িকা! বাংলা ধারাবাহিকের এই অভিনেত্রীরা এখন কী করছেন?
বাংলা টেলিভিশনে একসময় যাঁরা ছিলেন ধারাবাহিকের প্রধান নায়িকা, জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে, সময়ের সঙ্গে তাঁদের অনেককেই দেখা গিয়েছে পার্শ্বচরিত্রে।
বিনোদনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছোটপর্দা। বহু ধারাবাহিক দর্শকের রোজনামচার সঙ্গে জড়িয়ে যায়। ধারাবাহিকের চরিত্রগুলি হয়ে ওঠে একেবারে পাশের বাড়ির সদস্য। বাংলা টেলিভিশনে একসময় যাঁরা ছিলেন ধারাবাহিকের প্রধান নায়িকা, জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে, সময়ের সঙ্গে তাঁদের অনেককেই দেখা গিয়েছে পার্শ্বচরিত্রে।
শুধু নায়িকা হয়েই কি দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া যায়? বাংলা টেলিভিশনের একাধিক অভিনেত্রী সেই ধারণা ভেঙেছেন। কখনও নায়িকার বোন, নায়িকার দিদি কিংবা খলনায়িকার ভূমিকায় নজর কাড়ছেন তাঁরা। আবার কেউ পা রেখেছেন বড়পর্দায়, কেউ বাংলা ছেড়ে কাজ করছেন মুম্বইয়ে। ২০২৬ সালে এসে কে কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত, কার কেরিয়ারে এসেছে নতুন মোড়?
শ্রীমা ভট্টাচার্য: ‘নাগলীলা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় অভিষেক হলেও, ‘জামাই রাজা’র নায়িকা হিসাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন শ্রীমা ভট্টাচার্য। পরবর্তী সময়ে ‘গাঁটছড়া’য় দ্যুতির চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। খড়ির বোনের চরিত্র হলেও গল্পে দ্যুতির গুরুত্ব ছিল যথেষ্ট। ‘বসু পরিবার’-এও কাজ করেছেন তিনি। তবে ছোটপর্দাতেই আটকে থাকেননি শ্রীমা। ২০২৬ সালে বড়পর্দায় কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রোমোটার বৌদি’ ছবিতে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ‘জ়ারিয়া ২’ ছবিতে রাজেশ্বর নাগের বিপরীতে অভিনয় করেছেন।
শ্রীতমা ভট্টাচার্য: ‘মা’ ধারাবাহিকের বড়বেলার ঝিলিক হিসাবে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন শ্রীতমা ভট্টাচার্য। ছোটপর্দার সেই পরিচিত মুখকে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চরিত্রে দেখা গিয়েছে। ঝিলিকের পরিচিতি ছাড়িয়ে অন্য ধরনের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। ‘কার কাছে কই মনের কথা’য় অভিনয় করে আলোচনায় এসেছিলেন। এই সিরিয়ালে তাঁকে দর্শক দেখেছেন পুতুল (নায়িকার ননদ) চরিত্রে। দীর্ঘ বিরতির পর ‘সংসার সংকীর্তন’-এ ফিরেছেন শ্রীতমা। এখানে মুখ্য চরিত্র শান্তির জায়ের চরিত্রে রয়েছেন তিনি।
ঈপ্সিতা মুখোপাধ্যায়: ‘সুবর্ণলতা’, ‘চোখের তারা তুই’-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন ঈপ্সিতা মুখোপাধ্যায়। এর পর ‘সন্ন্যাসী রাজা’, ‘ভক্তের ভগবান শ্রীকৃষ্ণ’, ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’, ‘আলোছায়া’, ‘জল থই থই ভালবাসা’র মতো একের পর এক ধারাবাহিকে নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নেন ঈপ্সিতা। পরে ‘ধুলোকণা’, ‘এক্কা দোক্কা’য় গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। ২০২২ সালে বড় পর্দায় পা রাখেন ঈপ্সিতা, ‘প্রসেনজিৎ ওয়েডস ঋতুপর্ণা’ ছবির হাত ধরে। এ বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’ ছবিতে কাজ করেছেন। বর্তমানে ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’ ধারাবাহিকে দ্বিতীয় প্রধান নায়িকাদের এক জন হিসাবে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন ঈপ্সিতা। তিন বোনের গল্পে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তাঁর।
আরও পড়ুন:
দিয়া মুখোপাধ্যায়: ‘সীমারেখা’ ধারাবাহিকে নায়িকা হিসাবে অভিনয় করেছিলেন দিয়া মুখোপাধ্যায়। পরে ‘মিঠাই’-এ সিদ্ধার্থের বোন শ্রীতমার চরিত্রে জনপ্রিয়তা পান। নায়িকা থেকে পরিবারের অন্যতম সদস্য— দুই ধরনের চরিত্রেই অভিনয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ‘মিঠাই’-এর পরে ‘কথা’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন দিয়া। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের কাজে।
শিঞ্জিনী চক্রবর্তী: ‘উমা’ ধারাবাহিকের নায়িকা থেকে ‘চিরসখা’য় বর্ষা! চরিত্রের ধরন বদলে দর্শকের নজর বার বার কেড়েছেন শিঞ্জিনী চক্রবর্তী। ‘চিরসখা’-তে তাঁর নেতিবাচক চরিত্রটি নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ ধারাবাহিক বন্ধ হওয়ার পরে নতুন কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গত জুনে ‘কুমকুম’ ধারাবাহিকে অভিনয় শুরু করেন শিঞ্জিনী। সেখানে নোরা নামে এক নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তাঁকে।
প্রাপ্তি চট্টোপাধ্যায়: ‘এই ছেলেটা ভেলভেলেটা’ ধারাবাহিকে শালুক হয়ে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন প্রাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। ‘জামাই রাজা’, ‘প্রথমা কাদম্বিনী’তে কাজ করেছেন। এ ছাড়াও ‘অনুরাগের ছোঁয়া’য় সূর্যের দিদির চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
রোশনি তন্বী ভট্টাচার্য: ‘হৃদয় হরণ বি.এ.পাশ’-এর পেখম থেকে ‘মন ফাগুন’, ‘এক্কা দোক্কা’, ‘ফেলনা’ এবং ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’ মেগায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোশনি তন্বী ভট্টাচার্য। ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ২০২৬ সালের গোড়ায় তাঁর হিন্দি ধারাবাহিকে কাজের খবর প্রকাশ্যে আসে। ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস পরশুরাম’-এ অভিনয়ের খবরও পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
লাভলি মৈত্র: ‘জলনূপুর’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন লাভলি মৈত্র। পরে ‘মোহর’, ‘গুড্ডি’র মতো ধারাবাহিকেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। ২০২৬ সালে ‘চিরসখা’-এ মিটিলের চরিত্রে অভিনয় করেন লাভলি। তবে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের জন্য অভিনয়ের থেকে বিরতি নেন। এর পর হঠাৎ ধারাবাহিকটি বন্ধ হয়ে যায়।
গীতশ্রী রায়: ‘রাশি’ ধারাবাহিকের নায়িকা হিসাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন গীতশ্রী রায়। পরে ‘মন ফাগুন’, ‘শুভ বিবাহ’-এ অন্য চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘কমলা ও শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’-এও দেখা গিয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি ‘শ্বেতকালী ২’ ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন।
অনন্যা বিশ্বাস: ২০২১ সালে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল ‘টাপুর টুপুর’। এই সিরিয়ালে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনন্যা বিশ্বাস। তবে এর পর মূলত, পার্শ্বচরিত্রে কাজ করেছেন অভিনেত্রী। খলচরিত্রে তাঁর অভিনয় বেশ প্রশংসিত। এ ছাড়াও ‘ভালোবাসা ডট কম’, ‘যমুনা ঢাকি’, ‘কে আপন কে পর’, ‘নবাব নন্দিনী’, ‘যোগমায়া’র মতো বহু মেগায় দর্শক দেখেছে তাঁকে। বর্তমানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ‘তিলোত্তমা’ মেগা সিরিয়ালে।
পায়েল দে: বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত চেনা মুখ পায়েল দে। ‘ইচ্ছে’, ‘বেহুলা’, ‘বধুঁ কোন আলো লাগল চোখে’ , ‘তবু মনে রেখো’, ‘কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে’, ‘সোনা রোদের গান’-এর মতো ধারাবাহিকে তাঁকে মুখ্য চরিত্রে দেখা গিয়েছে। বেশ কয়েকটি মেগায় পায়েল পার্শ্বচরিত্রে কাজ করলেও, সে চরিত্রের যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল। ‘দুর্গা’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’, ‘দেশের মাটি’, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ পায়েলের অভিনয় প্রশংসিত। বর্তমানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’ নন-ফিকশন শো-তে।
অভিনেতা: ছোটপর্দার অভিনেতাদের ক্ষেত্রেও বদলেছে চরিত্রের ধরন। ‘কেয়া পাতার নৌকো’র নায়ক দেবোত্তম মজুমদারকে পরে ‘খড়কুটো’, ‘ধুলোকণা’, ‘গুড্ডি’র মতো ধারাবাহিকে অন্য চরিত্রে দেখা গিয়েছে। ‘ধুলোকণা’র নায়ক ইন্দ্রাশিস রায়ও ‘বালিঝড়’-এ ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।