অম্বল, পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা একদিনে সারে না। অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ সাময়িক আরাম দেয় ঠিকই, তবে কিছুদিন পর থেকেই সমস্যা আবারও ফিরে আসে। খাওয়াদাওয়া একটু বেশি হলেই পেট ভার, পেট ফাঁপার সমস্যা ভোগায়। সেই সঙ্গে গলা-বুক জ্বালা তো আছেই। অনেকেই বলেন, বাড়ির খাবার খেয়েও অম্বল হচ্ছে। যে কোনও খাবার খাওয়ার পরেই পেট ভার হয়ে যায়। শরীরে অস্বস্তি হতে থাক। পেটে যন্ত্রণাও হয় অনেকের। এ সমস্যা না সারালে তা থেকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা ইরিটেবল বাওয়ালে সিনড্রোমের মতো অসুখ মাথাচাড়া দিতে পারে। তাই সময় থাকতেই সতর্ক হতে হবে। পুজোর আগেই যদি গ্যাস-অম্বল, পেটের যে কোনও সমস্যা সারিয়ে ফেলতে হয়, তা হলে অন্ত্র ও পাকস্থলীর ডিটক্স প্রয়োজন। আর তা হবে যোগাসনেই।
অন্ত্রের ডিটক্স করুন সহজ যোগাসনে
উষ্ট্রাসন
প্রথমে ম্যাটের উপর হাঁটু মুড়ে বসুন। এ বার পিছনের দিকে খানিকটা হেলে দুই হাত দিয়ে গোড়ালি ধরুন। মাথা পিছনের দিকে ঝুলিয়ে ধীরে ধীরে পেটের অংশটা সামনের দিকে এগিয়ে দিন। এর পরে ডান হাতের বুড়ো আঙুলটি ডান দিকের গোড়ালির ভিতর দিকে রেখে বাকি সব আঙুল বাইরের দিকে রাখুন। বাঁ দিকের ক্ষেত্রেও একই ভাবে রাখুন। পায়ের পাতা মাটিতে রাখুন।
আরও পড়ুন:
হলাসন
ম্যাটের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই পা একসঙ্গে জোড়া করে উপরে তুলুন। এ বার দুই হাত দিয়ে কোমর ধরে এমন ভাবে শরীরটাকে তুলুন যাতে নিতম্ব, কোমর, পিঠ টানটান থাকে। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে দুই পা কোমর থেকে ভাঁজ করে হাঁটু ভেঙে মাথার পিছন দিকে এমন ভাবে নিয়ে যান, যাতে পায়ের আঙুল মাথার পিছন দিকের ম্যাট বা মাটি স্পর্শ করে। এই ভঙ্গিতে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। ১০-২০ সেকেন্ড থেকে পা দু’টি আবার সোজা উপরের দিকে টানটান করে রাখুন। হাত কোমর থেকে সরিয়ে নিতম্ব ম্যাটে ছোঁয়ান। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা মাটিতে রাখুন। এই আসনটি দিনে ২ থেকে ৩ বার করুন।
কপালভাতি প্রাণায়াম
কপালভাতি খুব তাড়াতাড়ি হজমের সমস্যা দূর করতে পারে। প্রথমে পদ্মাসন বা সুখাসনে বসুন। শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিয়ে কিছু ক্ষণ ধরে রাখুন। ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। খেয়াল রাখবেন, শ্বাস ছাড়ার সময়ে পেট যেন একটু করে ভিতরের দিকে ঢুকে আসে। এই পদ্ধতিতে ২০ বার শ্বাস নিন ও ছাড়ুন।