বাঙালির প্রতিদিনের খাবারে ডাল একটি অত্যন্ত জরুরি খাবার। মুগ, বিউলি, অড়হর বা মুসুর—ডাল যে নামেরই হোক, প্রতিটি ডালের নিজস্ব পুষ্টিগুণ ও আলাদা আলাদা উপকারিতা রয়েছে। ডাল প্রোটিনের সবচেয়ে ভাল উৎস। তাই কিডনির রোগ হলেই অনেকে ভেবে বসেন ডাল মানেই খারাপ! সত্যিই কি কিডনির সমস্যা থাকলে ডাল খেতে নেই?
বাঙালির পাতে ডাল না থাকলে মন ভরে না। তবে কিডনির রোগীদের ডাল খেতে হবে বুঝেশুনে, এমনটাই মত পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তীর। তাঁর কথায়, ডালে প্রোটিন থাকে, সঙ্গে কিছুটা পটাশিয়াম, ভিটামিন ও খনিজও থাকে। অনেকেই ভাবেন কিডনির রোগে প্রোটিন মানেই ক্ষতিকর, তাই ডাল খাওয়া যাবে না। এই ধারণাটা পুরোপুরি ঠিক নয়।
কোন ডাল খাওয়া যাবে?
পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, কিডনির রোগীরা মুগ ডাল, অড়হর ডাল এবং বিউলির ডাল খেতে পারবেন, তবে অবশ্যই পরিমাণ বুঝে। সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার দরকার নেই, বরং পরিমিত মাত্রায় খেলেই হল। তা ছাড়া ডাল খেতে হলে কিডনির রোগীদের একটু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ।
১. একদিনে একটিই প্রোটিন: ডালও প্রোটিনের উৎস, মাছ-মাংসও তাই। যেদিন মাছ বা মাংস খাবেন, সেদিন ডাল এড়িয়ে যান। দু’টো একসঙ্গে খেলে প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রোটিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে এই বিষয়টি ভুললে চলবে না।
২. ভিজিয়ে রান্না করুন: ডাল রান্নার আগে ভাল করে ভিজিয়ে জল ফেলে দিন। এতে ডালের মধ্যে থাকা অতিরিক্ত পটাশিয়াম অনেকটা কমে যায়, যা কিডনি রোগীদের জন্য খুব জরুরি।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ, ডাল নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে ঠিক কতটা ডাল খেলে শরীরের ক্ষতি হবে না, কিডনির রোগীরা তা নিজের ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের থেকে জেনে নিন। সঠিক পরিমাপে ডাল খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টিটুকু পাবে, কিডনির উপর চাপও পড়বে না।