ওজন কমানো সহজ নয়। ব্যায়াম, ডায়েট কত কিছুই তো লাগে। পুজোর আগে আগেই চেহারায় ছিপছিপে ভাব আনতে যাঁরা মরিয়া, তাঁদের জন্য পথটা কঠিন। তবে অসম্ভবও নয়। একটি বিশেষ ব্যায়াম রোজ দু’বেলা করে অভ্যাস করলে শরীরের নীচের অংশের চর্বি গলে যাবে। কোমর, নিতম্ব ও তলপেটের মেদ অনেকটা কমবে। পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন শিল্পা শেট্টি।
ভারতীয় মহিলাদের শরীরের নীচের অংশেই মেদ জমে বেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘লিপেডেমা’। পিঠ, হাত বা পেটের উপরের অংশে তেমন চর্বি না থাকলেও, তলপেট, কোমর, নিতম্ব, ঊরুতে মেদ এতটাই বেশি জমে যায় যে, পছন্দের পোশাক পরতেই সমস্যা হয়। আবার কারও নিতম্ব ও ঊরুতে যতটা বেশি চর্বির স্তর জমে, পেটে ততটা জমে না। পুরোটাই সামঞ্জস্যহীন ভাবে হয়। আর এই মেদ কমানোও খুব কষ্টকর। শরীরের গঠনই নষ্ট হয়ে যায়। এমন মেদ কমানোর এক সহজ পন্থা শিখিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টি। রোজ দু’বেলা করে অভ্যাস করতে হবে সুপ্ত বজ্রাসন। এই ব্যায়ামে মেদ যেমন কমবে, তেমনই নানা উপকারও হবে।
কী ভাবে করবেন?
১) যোগ ম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসুন। পিঠ সোজা ও টানটান থাকবে। গভীর ভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। এটি প্রারম্ভিক অবস্থান।
২) এর পর বজ্রাসনের ভঙ্গিতে বসুন। হাঁটু মুড়ে গোড়ালির উপর বসতে হবে। নিতম্ব থাকবে দুই গোড়ালির মাঝে।
৩) এ বার হাতের তালু এবং কনুইয়ের উপর ভর দিয়ে ধীরে ধীরে শরীরের উপরের অংশ পিছনের দিকে হেলিয়ে দিন।
আরও পড়ুন:
৪) কনুইয়ে ভর দিয়ে মাথার পিছনের অংশ ও পিঠ পুরোপুরি মাটিতে স্পর্শ করতে হবে। প্রথম প্রথম সমস্যা হবে। তবে ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।
৫) এই ভঙ্গিতে পিঠ টানটান থাকবে, শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। ১০ সেকেন্ড বিরতি নিয়ে আবার অভ্যাস করুন।
৬) ৫-৭ সেটে রোজ সকালে ও বিকেলে অভ্যাস করলে উপকার পেতে পারেন।
লাভ কী কী হবে?
সুপ্ত বজ্রাসন অভ্যাসে সারা শরীরের স্ট্রেচিং হয়। রক্তসঞ্চালন বাড়ে। পেশির জোরও বৃদ্ধি হয়।
এই ব্যায়ামে পিঠ, পেট ও ঊরুতে চাপ পড়ে। তাই ওই অংশের পেশি টানটান হয়। পিঠে চর্বি বেশি যাঁদের, তাঁরা ব্যায়ামটি করলে উপকার পাবেন।
পেট ও কোমরের মেদ ঝরাতেও সুপ্ত বজ্রাসন অভ্যাস করতে পারেন। নিয়মিত অনুশীলনে থলথলে চর্বি অনেকটাই কমে যাবে।
নিতম্ব, ঊরু ও কাফ মাসলেরও ব্যায়াম হবে। পায়ের পেশি টানটান হবে, পায়ের গড়নও সুন্দর হবে।
এই আসনটি করলে থাইরয়েডের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। গ্যাস-অম্বল বা বদহজমের সমস্যা কমে যাবে।
যোগাসন প্রশিক্ষকেরা বলেন, সুপ্ত বজ্রাসনে ফুসফুসেরও ব্যায়াম হয়। তাই শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির সমস্যা থাকলেও আসনটি অভ্যাসে সুফল পেতে পারেন।