পায়ে ব্যথা, হাঁটতে গেলেই পেশিতে টান পড়ে বা পায়ের পাতা অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে যায়? ক্লান্তি বা জলশূন্যতা ভেবে উপসর্গগুলি এড়িয়ে যাচ্ছেন? রক্তনালির গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে! আপনি পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজ়িজ়ে আক্রান্ত নন তো? এটি এমন একটি রোগ, যা যা ধীরে ধীরে বাড়ে এবং সময়মতো শনাক্ত না হলে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। শুধু পা নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গের রক্ত সঞ্চালনও এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজ়িজ় কী রোগ?
পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজ়িজ় বা পিভিডি হল এমন একটি রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যা, যেখানে হাত-পায়ের মতো শরীরের প্রান্তীয় অংশে রক্ত পৌঁছোনোর পথ সঙ্কীর্ণ বা বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত ধমনির ভিতরে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে প্লাক তৈরি হলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। পায়ের ধমনিতে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ফলে পায়ের পেশি ও অন্যান্য কোষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত ঠিকমতো পৌঁছোতে পারে না। এই রোগের বিপদ হল, এটি সাধারণত হঠাৎ করে দেখা দেয় না। ধীরে ধীরে বাড়ে। প্রথম দিকে হাঁটাচলায় অস্বস্তি বা পায়ে ক্লান্তি দেখা দিলেও অনেকেই তা বয়স, হাড়ের সমস্যা বা পেশির দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যান। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। চিকিৎসা না হলে পায়ে ক্ষত, ঘা, গ্যাংগ্রিন, এমনকি অঙ্গচ্ছেদের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
এই রোগের উপসর্গ কী কী?
১. হাঁটতে শুরু করলে পায়ের পেশিতে ব্যথা, টান বা ভার অনুভব করা এই রোগের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে যায়, কিন্তু আবার হাঁটতে শুরু করলে তা ফিরে আসে।
২. দেহের অন্যান্য অংশের তুলনায় পা বেশি ঠান্ডা হয়ে থাকে।
৩. পায়ের ক্ষত কিছুতেই সারতে চায় না। বিশেষ করে, ডায়াবিটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ দেখা যায়।
৪. ত্বকের নানা রকম সমস্যা দেখা যায়। শুষ্কতা, রং বদলাতে থাকা, ছাল ওঠা ইত্যাদি।
কাদের এই রোগের ঝুঁকি বেশি?
১. হৃদ্যন্ত্রের রোগের কারণের সঙ্গে মিল রয়েছে পিভিডির কারণের। ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
২. ধূমপানও অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ। কারণ, তামাকের উপাদান ধমনির দেওয়ালের ক্ষতি করে এবং রক্তনালিতে প্লাক জমার প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
৩. পরিবারের কারও পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজ়িজ় বা হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।