সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি সংখ্যার একটি নিজস্ব শক্তি, অধিপতি গ্রহ এবং চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য থাকে। বিশেষ কয়েকটি জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকাদের মানসিক গঠন এবং স্বভাবের মধ্যে এমন কিছু সহজাত বৈশিষ্ট্য থাকে, যা তাঁদের প্রযুক্তির প্রতি বেশি আসক্ত করে তোলে। সে কারণে তাঁরা দিনরাত অগ্রাহ্য করে ক্রমাগত ফোন ঘাঁটতে থাকেন। কিছু ক্ষণ পরেই ফোন রেখে দেবেন ভেবেও নিজেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেন না। ফোন থেকে আর চোখ সরাতে পারেন না তাঁরা। নীচে এই তিন জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
জন্মসংখ্যা ৩
৩ সংখ্যার অধিপতি গ্রহ হল বৃহস্পতি। এই জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত কৌতূহলী, মিশুকে এবং জ্ঞানপিপাসু হন। তাঁদের নতুন কিছু জানার এবং শেখার প্রবল আগ্রহ থাকে। তাই নানা ধরনের প্রতিবেদন পড়া, শিক্ষামূলক ভিডিয়ো দেখা অথবা সাম্প্রতিক ঘটনাবলি জানার জন্য তাঁরা ফোন নিয়ে প্রচুর সময় কাটান। তথ্যের ক্ষুধা থাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখার প্রবল তৃষ্ণা রয়েছে তাঁদের। তাঁরা স্বভাবগত ভাবে আড্ডাপ্রিয়। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে চ্যাট করা, সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকা এবং মজাদার ভিডিয়ো শেয়ার করার জন্য তাঁদের হাত থেকে ফোন নামতেই চায় না।
আরও পড়ুন:
জন্মসংখ্যা ৫
এই জন্মসংখ্যার অধিপতি গ্রহ হল বুধ যা বুদ্ধি, যোগাযোগ এবং দ্রুত পরিবর্তনের প্রতীক। সংখ্যাতত্ত্বে এই সংখ্যাকে সবচেয়ে চঞ্চল এবং গতিশীল বলে ধরা হয়। তাঁরা দ্রুত একঘেয়েমি বোধ করেন। মস্তিষ্ককে সারা ক্ষণ ব্যস্ত রাখার জন্য তাঁদের উদ্দীপনার প্রয়োজন হয়। ফোন তাঁদের কাছে সেই বিনোদনের সহজ মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। একের পর এক অ্যাপ ঘাঁটা, রিল দেখা, ভিডিয়ো গেম খেলা এবং একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানোর সহজাত অভ্যাসের কারণে তাঁরা ফোনের স্ক্রিনে মগ্ন থাকেন। তাঁদের মন এক জায়গায় স্থির থাকে না। তাই ফোন ঘাঁটা তাঁদের কাছে এক রকম নেশায় পরিণত হয়।
আরও পড়ুন:
জন্মসংখ্যা ৭
৭ জন্মসংখ্যার অধিপতি গ্রহ হল কেতু। এই সংখ্যার জাতক-জাতিকারা আধ্যাত্মিক, চিন্তাশীল, অন্তর্মুখী এবং গবেষক প্রকৃতির হন। ৩ বা ৫ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিদের মতো এঁরা সামাজিক যোগাযোগের জন্য ফোন ঘাঁটেন না। তাঁরা ফোন ব্যবহার করেন কোনও গভীর রহস্য বা জটিল বিষয়ের গভীরে যাওয়ার জন্য। দর্শন, বিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব বা কোনও রহস্যময় বিষয় নিয়ে ইন্টারনেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গবেষণা করা তাঁদের স্বভাব। তাঁরা বাস্তব জগতের কোলাহল থেকে দূরে নিজেদের গুটিয়ে রাখতে ভালবাসেন। বাস্তব দুনিয়া থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে তাঁরা ফোনের ভার্চুয়াল জগতে ডুব দেন।