বাথরুমে আয়না লাগানো কেবল একটি প্রয়োজনীয়তাই নয়, এটি শৌচালয়ের সমগ্র চেহারা এবং পরিবেশ বদলে দিতে পারে। অন্দরসজ্জা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের দিক থেকে বাথরুমে আয়না লাগানোর সময় কিছু দিক খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সঠিক দিকে আয়না লাগালে তা ইতিবাচক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, অন্য দিকে ভুল দিকে আয়না বসালে তা নেতিবাচক শক্তির কারণ হতে পারে। বাথরুমে আয়না লাগানোর সঠিক নিয়মকানুন নিয়ে নীচে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
- বাথরুমের উত্তর অথবা পূর্ব দিকের দেওয়ালে আয়না লাগানো সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। এই দিকগুলি ইতিবাচক শক্তির উৎস। উত্তর বা পূর্ব দেওয়ালে আয়না লাগালে তা সমৃদ্ধি এবং সুস্বাস্থ্য বয়ে আনে।
- যদি উত্তর বা পূর্ব দেওয়ালে জায়গা না থাকে, তবে উত্তর-পূর্ব কোণের দেওয়ালেও আয়না লাগানো যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
- বাথরুমের দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকের দেওয়ালে ভুলেও আয়না লাগাবেন না। বাস্তুমতে, এই দিকগুলি নেতিবাচক শক্তি আকর্ষণ করতে পারে এবং এর ফলে বাড়ির সদস্যদের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
- বাথরুমের দরজার ঠিক মুখোমুখি বা সামনে যেন আয়না না থাকে। দরজা খুললেই যাতে আয়নায় নিজের প্রতিফলন দেখা না যায়, সে দিকে খেয়াল রাখুন। কারণ দরজা দিয়ে প্রবেশ করা নেতিবাচক শক্তি আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে আবার বাথরুমেই ফিরে আসে।
- কমোডের ঠিক সামনে বা মুখোমুখি আয়না লাগানো উচিত নয়। বাস্তুমতে, কমোডের ক্ষতিকারক শক্তি আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
- আয়নাটি মেঝে থেকে কিছুটা উঁচুতে লাগাতে হবে, যাতে কমোড বা নিকাশি ব্যবস্থার প্রতিফলন সরাসরি আয়নায় স্পষ্ট না দেখা যায়।
- বাথরুমের জন্য বর্গাকার বা আয়তাকার আয়না সবচেয়ে ভাল। গোল বা ডিম্বাকৃতি আয়না বাস্তুমতে বাথরুমের জন্য খুব একটা উপযুক্ত নয়। কোনও অদ্ভুত বা ধারালো কোণযুক্ত আকৃতির আয়না এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
- আয়না সব সময় পরিষ্কার ও চকচকে রাখা উচিত। বাথরুমের আয়নায় যেন জলের দাগ বা বাষ্প জমে না থাকে। কোনও ভাবেই ফাটা বা ভাঙা আয়না বাথরুমে রাখবেন না। এটি তীব্র নেতিবাচক শক্তি তৈরি করে।
- বাথরুম পুরোপুরি অন্ধকার থাকা অবস্থায় যেন আয়নায় আলো-ছায়ার কোনও রকম অদ্ভুত প্রতিফলন না ঘটে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাথরুমে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।