মণিপুরে গুলি করে হত্যা করা হল দু’জন নাগা ব্যক্তিকে। আহত আরও দু’জন। কালেঞ্জাং গ্রামের প্রধানের বাড়িতে কয়েক জন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সেই হামলাতেই হতাহত হন এই চারজন।
ঘটনার কিছু পরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। যদিও আক্রমণ কেন হল, সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। নিহতদের নাম রকি ও কুমার। তাঁরা দু’জনেই সেনাপতি জেলার অন্য দুই গ্রামের বাসিন্দা। আহত দুই ব্যাক্তির নাম আদানি মানিও এবং আশিহো সানি। দু’জনকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই হামলার নেপথ্যে কুকি উপজাতির সদস্যদের হাত আছে। যদিও পুলিশ আধিকারিকদের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহ শনিবার মাও এলাকায় গিয়েছিলেন মারামের ডন বস্কো কলেজের রজতজয়ন্তী উদ্যাপনে যোগদান করতে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর এই হামলার ঘটনায় বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, নিরীহ মানুষের প্রাণনাশের ঘটনাটি কাপুরুষতার নিদর্শন। আহত দুই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য সেনাপতি জেলার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’’
২৪ সেপ্টেম্বর ভারত-মায়ানমার সীমান্ত-সংলগ্ন কামজং জেলায় আরও একটি হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় চার জনের। পর পর এই ধরনের হামলার ঘটনায় মণিপুরে নাগা বাসিন্দাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে নাগা সামাজিক সংগঠনগুলি।
ঘটনাচক্রে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার পর ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি) শনিবারই অর্থনৈতিক বন্ধ সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। মে মাসে অপহরণের পর ছ’জন নাগা ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় এই বন্ধ ডাকা হয়। ইউএনসির মূল দাবি ছিল— কুকি সন্ত্রাসবাদী দলগুলির সঙ্গে হামলা বন্ধ করার সমঝোতা, উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপজেনের পদত্যাগ এবং মে মাসের সন্ত্রাসবাদী হামলার বিচার। তাদের আরও দাবি ছিল, কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট-প্রেসিডেন্ট (কেএনএফ-পি) দলটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তকমা দেওয়া হোক।
নাগা ও কুকি, এই দুই উপজাতির সংঘাত মণিপুরে এখন প্রধান সমস্যা। সরকার কী ভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে, তা অবশ্য সময়ই বলবে।