তিন বছরের সম্পর্কে ছেদ! মেনে নিতে পারেননি প্রেমিক। প্রাক্তন প্রেমিকাকে ডেকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। পরে প্রমাণ লোপাট করতে দেহ পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। দগ্ধ দেহাবশেষের সূত্র ধরে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে কেরলমের ইডুক্কী জেলায়। পুলিশ সূত্রে খবর, রাজকুমারি এলাকার ভট্টপার বি ডিভিশনের বাসিন্দা নিশান্তের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তামিলনাড়ুর বোডীনায়কানুরের পরমশিবম কইল স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা নিথ্যা। ২০২৩ সাল থেকে দু’জনে সম্পর্কে ছিলেন। তবে কয়েক দিন আগে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। তার পর থেকেই নিশান্ত নানা অজুহাতে নিথ্যার সঙ্গে দেখা করতে চাইছিলেন। প্রায় প্রতিবারই নিশান্তকে এড়িয়ে যাচ্ছিলেন নিথ্যা। তবে বার বার বলার পর শেষে প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হন তিনি। পরিকল্পনামতো পুপরার একটি চা-বাগানে দেখা করেন দু’জনে। অভিযোগ, নিশান্ত বার বার ওই তরুণীকে সম্পর্কে ফিরে আসার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু নিথ্যা রাজি না-হওয়ায় দু’জনের মধ্যে অশান্তি বাধে।
অভিযোগ, কথা কাটাকাটির মধ্যে নিশান্ত আচমকাই প্রাক্তন প্রেমিকাকে মারধর করেন। তার পরে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন নিশান্ত। খুনের পর মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে পাথর দিয়ে আঘাত করেন। পরে দেহ চা-বাগানে ফেলে পালিয়ে যান। তবে রাতে আবার ফিরে আসেন। প্রমাণ লোপাট করতে ওই তরুণীর দেহ অটোয় চাপিয়ে পাম্বলা বাঁধ এলাকায় নিয়ে যান নিশান্ত। সেখানে দেহ ফেলে দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ভেবেছিলেন দেহ পুড়ে ছাই হয়ে গেলে আর কোনও প্রমাণ থাকবে না।
আরও পড়ুন:
যদিও শেষপর্যন্ত নিশান্তের সেই আশা পূরণ হয়নি। পরের দিন সকালে অগ্নিদগ্ধ দেহাংশ খুঁজে পায় পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমে ওই দেহ কার, তা খুঁজে বার করে। পরিচয় জানার পর খোঁজখবর নিতেই নিশান্তের কথা জানতে পারেন তদন্তকারীরা। অন্য দিকে, ঘটনার পর থেকেই মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করে ছিলেন নিশান্ত। আর তাতেই পুলিশের আরও সন্দেহ হয় তাঁর উপর। তল্লাশি চালিয়ে রাজকুমারী এলাকা থেকেই নিশান্তকে খুঁজে বার করে পুলিশ। হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করে। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরার মুখে সব অপরাধ স্বীকার করে নেন নিশান্ত।