লখনউয়ের ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর লিভ ইন সঙ্গী তথা মডেল শ্রদ্ধা দুবে এবং তাঁর বোন রশ্মি ও গাড়িচালক আদিলের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ। ছ’টি দল গঠন করে যখন তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ, সেই সময় নেপাল থেকে একটি সিসি ক্যামেরা ফুটেজ তাদের হাতে আসে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশে রূপঈডীহা সীমান্ত দিয়ে শ্রদ্ধারা নেপালে ঢুকেছেন। সেখানকার দু’টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ফুটেজে শ্রদ্ধা এবং তাঁর বোন রশ্মি এবং আদিলকে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রথম ফুটেজটি নেপালের মহিমনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে। সেখানে শ্রদ্ধা, রশ্মি এবং আদিল রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তার পর দ্বিতীয় ফুটেজে দেখা গিয়েছে, তাঁরা একটি টোটোতে উঠছেন।
ঘটনাচক্রে, শ্রদ্ধার সন্ধানে লখনউ পুলিশ ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ঠিক তখনই শ্রদ্ধার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। সেই ভিডিয়োয় শ্রদ্ধা নিজেকে নির্দোষ বলে দাবিও করেন। এটাও দাবি করেন, শিবার মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। শুধু তা-ই নয়, এটাও দাবি করেন, শিবা আত্মহত্যা করেছেন। তাঁকে খুন করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারীদের সন্দেহ, নেপাল থেকেই এই ভিডিয়োটি করেছেন শ্রদ্ধা। ভিডিয়োটি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। কিন্তু নেপালে কোথায় আত্মগোপন করে রয়েছেন শ্রদ্ধা, সেই ঠিকানা এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশ। নেপাল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে লখনউ পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের খবর, শ্রদ্ধার শেষ অবস্থান দেখা গিয়েছিল বহরাইচে। তাঁরা তিন জনে গাড়িতে করে লখনউ থেকে সীতাপুর যান। সেখান থেকে লখিমপুর খীরী। তার পর সেখান থেকে রূপঈডীহায় পৌঁছোন। সেখানে গাড়িটি ফেলে রেখে হেঁটেই সীমান্ত পেরোন তিন জনে।
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর চারতলা আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ক্যাফে মালিক শিবার। ওই আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন শ্রদ্ধা। তাঁর সঙ্গে লিভ ইন সম্পর্ক ছিল শিবার। তিনি ছাদ থেকে কী ভাবে পড়ে গেলেন, তা ঘিরে রহস্য বাড়ছিল। তার মধ্যেই শিবার মা দাবি করেন, তিনি আত্মহত্যা করেননি। খুন করা হয়েছে। খুনের অভিযোগ তুলেছেন শ্রদ্ধা এবং তাঁর বোনের বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই পলাতক শ্রদ্ধা এবং তাঁর বোন।