পাহাড়ের কিনারা থেকে ১৭০০ ফুট গভীর খাদে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন গুজরাতের অহমদাবাদের এক যুবক। সেই ঘটনায় প্রকাশ্যে এল ক্যামেরাবন্দি করা তাঁর শেষ ভিডিয়ো। সেই ভিডিয়োয় তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কেন এই চরম পদক্ষেপ করলেন। একই সঙ্গে গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনের পরিবর্তনের দাবিও জানান ওই যুবক।
মৃত যুবকের নাম বিশ্বরাজ গোহিল। তিনি ভাবনগরের থাকতেন। দিন কয়েক আগে হরিশচন্দ্রগড়ের কোঙ্কণকড়া পাহাড়ের খাদ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি পাহাড়ের কিনারা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন। আত্মহত্যার নেপথ্যে কী কারণ, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশের হাতে একটি ভিডিয়ো আসে। দাবি করা হচ্ছে ১৩ মিনিটের ওই ভিডিয়োটি ঝাঁপ দেওয়ার আগে নিজের মোবাইলে রেকর্ড করেছিলেন বিশ্বরাজ।
ভিডিয়ো জুড়ে বিশ্বরাজ তাঁর দাম্পত্য কলহের কথা তুলে ধরেছেন। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ছিল বিস্তর। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই বিয়ে হয় তাঁর। গত সেপ্টেম্বরে দাম্পত্য কলহের জেরে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিশ্বরাজের স্ত্রী। সেই মামলার কারণে আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছিল বিশ্বরাজকে।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োয় বিশ্বরাজকে বলতে শোনা গিয়েছে, দাম্পত্য অশান্তির কারণে তিনি মারাত্মক ভাবে মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন। তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এ-ও দাবি করেন, গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনে বদল আনা হোক। অভিযোগ, ওই আইনের অপব্যবহার করেছেন তাঁর স্ত্রী।
কোঙ্কণকড়া পাহাড়ের কাছে একটি বাইক এবং মোবাইল দেখে সন্দেহ হয় পথচারী এবং স্থানীয়দের। তাঁরাই অহল্যানগর জেলার রাজুর থানায় বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। বাইক এবং মোবাইল সংগ্রহ করে। সেই সূত্র ধরেই বিশ্বরাজের সম্পর্কে জানতে পারে তারা। খাদের কোথায় দেহ আটকে রয়েছে, তা খুঁজতে ড্রোন ওড়ায় পুলিশ। সন্ধান পাওয়ার পর সেখানে নেমে উদ্ধারকারী দল বিশ্বরাজের দেহ উদ্ধার করে।