দুই বন্ধু বসে মদ খান। আকণ্ঠ মদ খেয়ে এক জন জ্ঞান হারানোর পর তাঁর পকেট থেকে ২,২৫০ টাকা হাতিয়ে নেন অন্য জন। পরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে খুন করেন বন্ধুকে। কেউ যাতে তাঁকে ধরতে না-পারেন, সেই কারণে দেহ নিয়ে ফেলে দেন অন্য এক জনের বাড়ির সামনে। দুর্ঘটনা হিসেবে সাজাতে চেয়েছিলেন গোটা বিষয়টা! তবে শেষরক্ষা হয়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। পুলিশ সূত্রে খবর, বীরজু নামে এক যুবক তাঁর বন্ধু শচীনের সঙ্গে বসে মদ খান। অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে একটা সময়ে ঘুমিয়ে পড়েন শচীন। সেই অবস্থায় প্রথমে বন্ধুকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে খুন করেন বীরজু। তার পরে মৃতের পকেট থেকে টাকা হাতান। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে দেহ তুলে ফেলে দেন পাড়ার এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে।
পুলিশ জানিয়েছে, শচীন ও বীরজু প্রায়ই একসঙ্গে মদ খেতেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বীরজুর থেকে কিছু টাকা চান শচীন। কিন্তু বীরজু বলেন, তাঁর কাছে কোনও টাকা নেই। টাকা জোগাড় করতে নিজের বাইক এক জনের কাছে বন্ধক রাখেন শচীন। প্রয়োজন মেটানোর পর বেঁচে যাওয়া টাকার কিছুটা দিয়ে মদ কিনে শচীন চলে যান বীরজুর বাড়ি। সেখানেই মদের আসর বসে।
আরও পড়ুন:
অভিযুক্ত পুলিশকে জানিয়েছেন, শচীনের কাছে আরও কিছু টাকা ছিল। সেই টাকা হাতানোর জন্যই খুনের পরিকল্পনা ছকেছিলেন তিনি। শচীন বেহুঁশ হয়ে গেলে তাঁকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে খুন করেন। পরে লাশ ফেলে দেন রাস্তার খারে এক জনের বাড়ির সামনে। শচীনের দেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে হয়েছিল পুলিশের। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর খুনের বিষয়টা স্পষ্ট হয়। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তের খোঁজ পায় পুলিশ। গ্রেফতারের পর জেরার মুখে অভিযোগ স্বীকার করেন অভিযুক্ত, দাবি তদন্তকারীদের।