রামলীলার উৎসবে রাবণ, মেঘনাদ এবং কুম্ভকর্ণের সঙ্গে আরশোলার একটি কুশপুতুলও পোড়ানো হবে দিল্লিতে। এমনটাই ঘোষণা করেছে রাজধানীর পিতমপুরায় রামলীলার আয়োজক কমিটি। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) পথে নেমেছে। লাগাতার আন্দোলনে নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে চাপে রাখতে চাইছে তারা। রামলীলায় আরশোলার কুশপুতুল পোড়ানোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সেই ‘ককরোচ’দের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়ার অভিপ্রায় থাকতে পারে, মনে করছেন অনেকে। সিজেপি প্রধান অভিজীত দিপকে মঙ্গলবার তা নিয়ে মুখ খুলেছেন।
আরও পড়ুন:
দিল্লির শ্রী কেশব রামলীলা কমিটি প্রতি বছর পিতমপুরায় রামলীলা অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ওই কমিটির সভাপতি বিজেপি বিধায়ক অশোক গোয়েল। রামলীলায় রাবণ, মেঘনাদ এবং কুম্ভকর্ণের কুশপুতুল সাধারণত পোড়ানো হয়। এ বার কমিটির তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, ৩০ ফুটের একটি আরশোলার কুশপুতুলও সেই তালিকায় থাকবে। কমিটির সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন দিপকে। দাবি, এতে ককরোচদের কোনও ক্ষতি হবে না। বরং হতে পারে লাভ। তাঁর কথায়, ‘‘এ ভাবে বিনামূল্যে আমাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’’ সিজেপির আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিংহও গোটা বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিতে রাজি হননি। একে তিনি ‘তামাশা’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
রামলীলার উদ্যোক্তারা অবশ্য আরশোলার কুশপুতুল পোড়ানোর সঙ্গে সিজেপির কোনও যোগ আছে বলে মানতে চাননি। তাঁদের দাবি, ওই আরশোলা আসলে নোংরা ও আবর্জনার প্রতীক। ‘স্বচ্ছ ভারত’ এবং ‘স্বচ্ছ দিল্লি’ অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁরা রামলীলায় পরিচ্ছন্নতার বার্তা দিতে চান। তাই এই উদ্যোগ। কমিটির সভাপতি তথা বিজেপি বিধায়ক অশোক বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনও উদ্দেশ্য নেই। অশুভের উপর শুভর জয় এবং পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য।’’