হাওড়ার লিলুয়ায় একটি বাড়িতে সোমবার আগুন লেগে গিয়েছিল। গ্যারাজে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল দু’টি গাড়ি এবং দু’টি বাইক। দমকলের চারটি ইঞ্জিন গিয়ে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারল, অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন খোদ বাড়ির পরিচারিকা!
লিলুয়ার রবীন্দ্র সরণি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী অসিতকুমার ঘোষ। সোমবার অষ্টমীতে তিনি সপরিবার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফলে তাঁর বাড়ি ছিল ফাঁকা। ওই বাড়িতে গত আট বছর ধরে পরিচারিকার কাজ করেন পূর্ণিমা দাস নামের এক প্রৌঢ়া। জন্মসূত্রে তিনি ওড়িশার বাসিন্দা। পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনিই সোমবার ফাঁকা বাড়িতে ঢুকেছিলেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। অভিযোগ, সোনাদানা ও নগদ টাকা চুরি করে বাড়ির গ্যারাজে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। প্রমাণ লোপাটের জন্যই আগুন ধরিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার লিলুয়া থানার পুলিশ তাঁকে আটক করেছে।
আরও পড়ুন:
অসিতদের বাড়ির গ্যারাজে একটি বিএমডব্লিউ-সহ দু’টি গাড়ি ছিল। সঙ্গে রাখা ছিল দু’টি দামি বাইকও। পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবারের অগ্নিকাণ্ডে সবমিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। অভিযোগ, নকল চাবি দিয়ে তালা খুলে ফাঁকা বাড়িতে ঢুকেছিলেন পূর্ণিমা। বেরোনোর সময় ডিজ়েল ঢেলে গ্যারাজে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, শাড়ি পরে তিনি বাড়িতে ঢুকছেন। আবার বা়ড়ির ভিতরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সালোয়ার কামিজ পরে সিঁড়ি থেকে নামছেন। এই ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পরেই পূর্ণিমাকে আটক করা হয়। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
অষ্টমীতে লিলুয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। কী থেকে ফাঁকা বাড়িতে এমন আগুন লাগল, তা নিয়ে এলাকার বাসিন্দারাও ধন্দে ছিলেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পরিচারিকার কীর্তি প্রকাশ্যে আসে।