যাদবপুরে সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে যে মামলা হয়েছিল, তা খারিজ করে দিলেন বিচারপতি। যাদবপুরের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছিল সিপিএম। সে বিষয়ে হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় সোমবার। উচ্চ আদালতের বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের বেঞ্চে মঙ্গলবার মামলাটির শুনানি ছিল। সিপিএমের সেই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার, সপ্তমীর সন্ধ্যায় যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে সিপিএমের বইয়ের অস্থায়ী স্টল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। সিপিএমের দাবি, পুলিশ এবং পুরসভার আধিকারিকেরা বইয়ের স্টল ভাঙতে এসেছিলেন। নিয়ে আসা হয়েছিল বুলডোজ়ারও। ওই স্টল ভাঙার আইনি কোনও নোটিস প্রশাসনের কাছে আছে কি না, দেখতে চান বাম নেতৃত্ব। সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বচসাও হয়, যার ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। ওই ঘটনার বিরোধিতায় এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সিপিএম হাই কোর্টে মামলা করে।
আরও পড়ুন:
শুধু যাদবপুর নয়, রাজ্যের নানা প্রান্তে দুর্গাপুজো উপলক্ষে সিপিএমের বইয়ের স্টল বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ। এর আগে বনগাঁয় এই স্টল নিয়ে হাই কোর্টে মামলা হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার সিপিএমরে বনগাঁয় স্টলের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার আবার ডিভিশন বেঞ্চে যায়। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি শাব্বার রশিদির বেঞ্চ একক বেঞ্চের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়ার পরেই যাদবপুরে বইয়ের স্টল ভাঙার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কিছু কিছু জায়গায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধেও বইয়ের স্টলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের কাজের সঙ্গে তাঁর দলের কোনও সম্পর্ক নেই।
যাদবপুরের বইয়ের স্টল ভাঙার পদক্ষেপ বেআইনি বলে আদালতে দাবি করেন সিপিএমের আইনজীবী। তাঁরা চেয়েছিলেন, ভবিষ্যতে যাতে এমন কোনও অভিযান প্রশাসন চালাতে না পারে, আদালত তা নিশ্চিত করুক। ঠিক কী কারণে, কোন যুক্তিতে মামলা খারিজ করা হল, এখনও স্পষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশের কপি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।