Advertisement
E-Paper

ডিএ মামলার তৃতীয় রিপোর্টে উল্লেখ নেই শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের, ইন্দু মলহোত্র কমিটির রিপোর্ট ঘিরে ক্ষোভ

কমিটির তরফে রিপোর্ট তৈরির আগে মামলার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠনের কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে তৃতীয় রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় সেই তথ্য বিবেচনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল। সেই মতো মামলাকারী সংগঠনগুলি প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত রিপোর্টে তাঁদের দাবির প্রতিফলন দেখা যায়নি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১৭
Teachers and Non-Teaching Staff Omitted from Third DA Case Report, Indu Malhotra Committee Report Sparks Anger

—প্রতীকী ছবি।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছে ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটির তৃতীয় অন্তর্বর্তী রিপোর্ট। কিন্তু সেই রিপোর্টে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং ‘গ্রান্ট-ইন-এইড’ কর্মীদের দাবির কোনও উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠনগুলির মধ্যে। তাদের অভিযোগ, কমিটির তরফে রিপোর্ট তৈরির আগে মামলার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠনের কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে তৃতীয় রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় সেই তথ্য বিবেচনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল। সেই মতো মামলাকারী সংগঠনগুলি প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত রিপোর্টে তাঁদের দাবির প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সংগঠনগুলির বক্তব্য, এই ঘটনা তাঁদের প্রতি অন্যায় ও অবিচারের শামিল। রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং ‘গ্রান্ট-ইন-এইড’ কর্মীদের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত ছিল বলে দাবি তাঁদের। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির অভিযোগ, তথ্য চাওয়ার পরে তা জমা নেওয়া হলেও রিপোর্টে সেই কর্মীদের দাবির উল্লেখ না থাকায় তাঁদের অবস্থান কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ৬৪ পাতার তৃতীয় অন্তর্বর্তী রিপোর্টে মূলত ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ এবং পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ত্রাণ (ডিআর) বণ্টনের অগ্রগতির হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের ৮ অক্টোবরের হলফনামায় ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের জন্য মোট প্রায় ৮,১০৩.২৯ কোটি টাকা বকেয়া ডিএ ও ডিআর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া বাবদ কর্মরত ও প্রাক্তন কর্মীদের বিভিন্ন শ্রেণি এবং পেনশনভোগীদের জন্য অর্থ বণ্টনের হিসাব কমিটির সামনে পেশ করেছে রাজ্য সরকার। অন্য দিকে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রেও অগ্রগতির তথ্য দেওয়া হয়েছে। ১০ অক্টোবরের বৈঠকে কমিটি রাজ্যকে বকেয়া বণ্টনের বিস্তারিত হিসাব এবং বাকি অর্থ দেওয়ার জন্য করা পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে বলেছে। ১৬ অক্টোবরের মধ্যে সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকের হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের দাবি নিয়ে রিপোর্টে আলাদা করে কোনও আলোচনা নেই বলে অভিযোগ সংগঠনগুলির। তাদের প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়ে থাকলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের দাবি সংক্রান্ত অবস্থান কেন স্পষ্ট করা হল না?

এ নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কর্মচারী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য রাজ্য সরকার কেন শুধু মনিটরিং কমিটির রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে থাকবে? নির্বাচনের আগে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করে সংগঠনগুলির হুঁশিয়ারি, সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে তার পরিণতি ভাল হবে না। বকেয়া ডিএ মেটানোর পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের দাবিকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘ইন্দু মলহোত্র কমিটি ডি এ মামলার সাথে যুক্ত সব কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠনের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছিল এই যুক্তিতে যে তা সুপ্রিম কোর্টে তৃতীয় রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় উল্লেখ করা হবে। সব মামলাকারী সংগঠন তথ্য-সহ সমস্ত কিছু দেওয়া সত্ত্বেও মলহোত্র কমিটি সুপ্রিম কোর্টে শিক্ষক শিক্ষাকর্মী-সহ গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের কথা একেবারেই উল্লেখ করেনি। এটা আমাদের সাথে অন্যায় ও অবিচার হচ্ছে। তা ছাড়া রাজ্য সরকার মলহোত্র কমিটির রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে থাকবে কেন! তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তো ছিল বকেয়া ডি এ মিটিয়ে দেওয়ার। সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে পরিণতি ভাল হবে না।’’

DA Non Teaching Staffs

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy