২০১৭ সালের পরে আর ছাত্র সংসদ ভোট হয়নি মধ্যপ্রদেশে। এ বার হাই কোর্টের নির্দেশের পরে তারই তোড়জোড় শুরু হল সেখানে। এবিভিপি (রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ছাত্র সংগঠন) সরকারি কলেজে পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে ইনদওরে জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই সরকারি মেডিক্যাল কলেজের দাবিতে আন্দোলন করে জলকামানের মুখে পড়েছে। পড়ুয়াদের একাংশ বলছে, দিল্লিতে সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-র আন্দোলনই অনুঘটকের কাজ করেছে। তার পরেই আসরে নেমেছে এবিভিপি–সহ ছাত্র সংগঠনগুলি।
গোটা মধ্যপ্রদেশ জুড়েই বাইক র্যালি করছেন ছাত্রনেতারা। চলছে সভা-সমিতি। ছোট সংগঠনগুলি সদস্য সংগ্রহের কাজে নেমেছে। পড়ুয়াদের একাংশ বলছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-র আন্দোলনের জন্য যে ভাবে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়, তা যাতে মধ্যপ্রদেশে না হয়, তাই সক্রিয় হয়েছে এবিভিপি। তারা বার বার প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে যে, মধ্যপ্রদেশে পড়ুয়াদের অসন্তোষ প্রকাশ করার কোনও কারণ নেই। অসন্তোষের কারণ যখন ঘটেছে, তখন তারাই পথে নেমেছে। এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক কেতন চতুর্বেদীর দাবি, ‘‘আমরা সারা বছর এখানে কাজ করি।’’ তাঁদের দাবি, পড়ুয়াদের অসন্তোষ থাকলে তা তারাই পৌঁছে দেন প্রশাসনের কাছে।
মনে করা হচ্ছে, এই সাংগঠনিক শক্তিতে ভর করেই এ বার নির্বাচনে জিততে চাইছে এবিভিপি। দিল্লির মতো আন্দোলন মধ্যপ্রদেশে যাতে কোনও ভাবেই না তৈরি হয়, তাই আগেভাগেই সতর্ক হচ্ছে। কংগ্রেস-সহ অন্য ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, সে জন্যই ছাত্র সংসদে জিততে মরিয়া হয়েছে সংঘের ছাত্র সংগঠন। এ ক্ষেত্রে তারা হাতিয়ার করেছে কলেজের পরিকাঠামো নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের দাবিদাওয়াকে। সেই দাবি নিয়েই গত ২৭ অক্টোবর ইনদওরে জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তারা। অভিযোগ, ব্যারিকেডও ভেঙেছে। এবিভিপির জাতীয় এগ্জ়িকিউটিভ সদস্য রীতেশ পটেলের দাবি, পড়ুয়ারা তাঁদের পাশে রয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রদেশের কলেজগুলিতে নির্বাচন না হওয়ায় এনএসইউআইয়ের সংগঠন প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। বেশ কয়েকটি কলেজের বহু আসনে তারা প্রার্থী খুঁজে পায়নি বলে খবর। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি আশুতোষ চোকসি জেলায় জেলায় বিভিন্ন কলেজে ঘুরছেন। তিনি জানান, বহু ছাত্র-ছাত্রী জানেনই না ছাত্র সংসদ নির্বাচন আসলে কী। কয়েকটি কলেজে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পড়ুয়ার রাজনীতিতে কোনও আগ্রহ নেই।
কেন বন্ধ হয় ভোট?
বার বার ছাত্র সংঘর্ষের কারণে ২০০৩ সাল থেকে মধ্যপ্রদেশের কলেজ পড়ুয়ারা সরাসরি সংসদ নির্বাচন করেননি। সে সময় পড়ুয়ারা ভোট দিয়ে ক্লাস রিপ্রেজ়েন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচন করতেন। সেই সিআরেরা সংসদ নির্বাচন করতেন। ২০০৬ সালে ছাত্র ভোটের সময়ে উজ্জ্বয়িনীর মাধব কলেজে এক অধ্যাপককে খুনের অভিযোগ ওঠে। সুপ্রিম কোর্ট লিংডো কমিটির সুপারিশ গ্রহণের কথা বলার পরে সে রাজ্যে নির্বাচন আরও বাধাপ্রাপ্ত হয়। ২০১৭ সালের ভোটে এবিভিপি বিপুল জয় পায়। রাজ্যের ছ’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পাঁচটিতেই তারা জয়ী হয়। তার পরে আর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি মধ্যপ্রদেশে। এই ন’বছরে যাঁরা পড়াশোনা করেছেন, তাঁরা ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে কোনও ভাবেই সম্পর্কিত হতে পারলেন না।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি এবিভিপির তরফে জানানো হয়েছিল যে ২০১৭-র পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে কোথাও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। ছাত্র রাজনীতি করে উঠে আসা বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ দাবি করেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের যোগ দেওয়া পড়ুয়াদের অধিকার। কিন্তু তৃণমূল সরকার সেটা ইচ্ছে করেই বন্ধ করে রেখেছিল। কারণ হিসেবে তাঁর ব্যাখ্যা, “তৃণমূলের এক দলের সঙ্গে অন্য দলের গোলমালের কারণেই এই নির্বাচন করানো হয়নি এত দিন।” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মানুষ। তাই তাঁর কাছে আবেদন করতে হবে না। নিজে থেকেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন করাবেন।”
এবিভিপি সম্প্রতি নিজেদের বৈঠকে ছাত্র সংসদ ভোট চালু করার পক্ষে প্রস্তাব পাস করিয়েছে। উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে তদ্বিরও শুরু করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত রাজ্যে ছাত্র ভোট করানো যায়। তবে অবশ্যই লিংডো কমিশনের সুপারিশ মেনে।