মাঝআকাশে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান। মাঝপথে আচমকাই হু হু করে ৩০০ ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল। তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। কার গাফিলতি, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই বিমানের পাইলট-ইন-কমান্ডের ভূমিকাও ছিল আতশকাচের নীচে। দু’বার তাঁর ডোপ টেস্ট করানো হয়। কোনও বারই ডোপ পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি ওই পাইলট। এ বার সেই পাইলটকেই বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া।
এয়ার ইন্ডিয়ার ওই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। তারা তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করেছে। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়, মাঝপথে বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম একসঙ্গে বিকল হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্বে যে পাইলট ককপিটে ছিলেন, তিনি আবার বিমানে ওঠার আগে গাঁজা এবং ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ-কে ওই পাইলটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশও করেছিল এএআইবি। সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার কয়ের ঘণ্টার মধ্যেই ওই পাইলটকে বরখাস্ত করা হল।
৪ অগস্ট ঘটনার পর ওই বিমানের দুই পাইলটের ‘সাইকোঅ্যাকটিভ’ পদার্থ পরীক্ষা করানো হয়। এই পরীক্ষার ফল থেকে জানা যায়, পাইলটেরা নেশাগ্রস্ত অবস্থা বিমান চালাচ্ছিলেন কি না! এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নিরাপত্তাই তাদের ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’। ডোপ পরীক্ষায় পাইলট শরীরে ‘সাইকোঅ্যাকটিভ’ পদার্থ পাওয়া গিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বিধি মেনেই ৩৪ বছর বয়সি ওই পাইলটকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এএআইবির প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৪ অগস্ট ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটে ১৩৭ জন যাত্রী (যার মধ্যে ৩ জন শিশু) এবং ৮ জন কর্মী-সহ মোট ১৪৫ জন আরোহী ছিলেন। ওড়িশার উপর দিয়ে ওড়ার সময় যান্ত্রিক গোলযোগ ও আচমকা উচ্চতা হ্রাসের জেরে অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন বিমানকর্মী গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক অনুমান ছিল, ‘এয়ার টার্বুল্যান্স’-এর কারণেই বিপত্তি ঘটে। আচমকা আবহাওয়ার মতিগতি বদলে গেলে, দুর্যোগ শুরু হয়ে গেলে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয় বিমানে। সূত্রের খবর, দুর্ঘটনার সময় ককপিটে ছিলেন না ওই বিমানের পাইলট-ইন কমান্ড। বিমানটি ছিল কো-পাইলটের নিয়ন্ত্রণে।