Advertisement
E-Paper

স্ত্রী, সন্তানের খরচ জোগানো স্বামীর ‘পবিত্র কর্তব্য’, মনুস্মৃতির শ্লোক উদ্ধৃত করে বলল এলাহাবাদ হাই কোর্ট

বিবাহ এক বার আইনত স্বীকৃত হয়ে গেলে স্ত্রী যদি প্রমাণ করতে পারেন তিনি আর্থিক ভাবে দুর্বল, তবে তাঁর জীবনধারণের খরচ জোগানো স্বামীর পবিত্র কর্তব্য, জানিয়েছে এলাহাবাদ হাই কোর্ট।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৭
স্বামীকে ভরণপোষণ দিতে নির্দেশ এলাহাবাদ হাই কোর্টের।

স্বামীকে ভরণপোষণ দিতে নির্দেশ এলাহাবাদ হাই কোর্টের। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের খরচ জোগানো, তাঁদের ভরণপোষণ প্রত্যেক স্বামীর ‘পবিত্র কর্তব্য’। তাঁকে তা পালন করতেই হবে। সম্প্রতি একটি মামলায় এমনটাই মন্তব্য করেছে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতাও স্বামীকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা পিঙ্কি বর্মা স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ বাবদ অর্থ দাবি করেছিলেন। কানপুর নগরের একটি পারিবারিক আদালত সেই খোরপোশের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়। কিন্তু পিঙ্কি খোরপোশের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চেয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি প্রবীণকুমার গিরির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়েছে। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি মনুস্মৃতির একাদশ অধ্যায়ের ১০ নম্বর শ্লোক উদ্ধৃত করেন। জানান, প্রাচীন ওই গ্রন্থ অনুযায়ী নাবালক সন্তান, স্ত্রী এবং বয়স্ক বাবা-মা যদি আর্থিক দিক থেকে দুর্বল হন, তবে তাঁদের জীবনধারণের খরচ জোগানো যে কোনও সমর্থ ব্যক্তির ‘পবিত্র কর্তব্য’।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রসঙ্গও টানেন বিচারপতি। ২০২২ সালে অঞ্জু গর্গ বনাম দীপক কুমার গর্গের মামলায় শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ‘‘স্ত্রী ও নাবালক সন্তানদের আর্থিক সহায়তা প্রদান স্বামীর পবিত্র দায়বদ্ধতা।’’ এই মামলার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হচ্ছে। এলাহাবাদ হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও বিবাহ এক বার আইনত স্বীকৃত হয়ে গেলে স্ত্রী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি নিজের জীবনধারণের খরচ জোগাড় করতে অক্ষম, তবে স্বামীকে তাঁর ভরণপোষণের ভার নিতেই হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রচলিত পুরনো রীতিনীতি বা সামাজিক অভ্যাস যা-ই থাক না কেন, তার প্রভাব এই নিয়মের উপর পড়ে না, মন্তব্য বিচারপতির।

মামলাকারীর স্বামীর আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল রোজগারের ২৫ শতাংশ স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যার ভরণপোষণ বাবদ খরচ করতে রাজি আছেন। তার পর পারিবারিক আদালতের নির্দেশে কিছু পরিবর্তন করে দেন বিচারপতি।

Manusmriti Allahabad High Court Husband Wife

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy