অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী চুরিকাণ্ডে চলতি সপ্তাহেই তাঁকে ক্লিনচিট দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। এ বার অযোধ্যার রামমন্দির ট্রাস্টের সেই পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় নিশানা করলেন রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রাক্তন প্রধানসচিব (প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি) নৃপেন্দ্র মিশ্রকে।
ন’পাতার খোলা চিঠিতে চম্পত লিখেছেন, ‘‘নৃপেন্দ্র মিশ্রের নেতৃত্বাধীন রামমন্দির নির্মাণ কমিটি সমস্ত সিদ্ধান্ত নিত এবং সে সংক্রান্ত পদক্ষেপ করত। মিশ্র তাঁর পছন্দের লোকজনকে শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির নির্মাণ কমিটিতে নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জন ছ’বছরে মাত্র দু’বার অযোধ্যায় এসেছিলেন, এবং আরেক জনের থেকে শুধু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পরামর্শ চাওয়া হত!’’ চম্পতের দাবি, মিশ্রের কর্তৃত্ব ছিল নিরঙ্কুশ। তিনি লিখেছেন, ‘‘কমিটির অনুমোদন ছাড়া একটি কাজও সম্পাদিত হয়নি। বাইরে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, তা গ্রহণ করা হত না।” চম্পতের চিঠি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
আরও পড়ুন:
উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই আইএএস নৃপেন্দ্র ২০১৪ সালের মে মাস থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রধানসচিব ছিলেন। তাঁকে ওই পদে বসানোর জন্য সরকারি বিধিও বদল করা হয়েছিল সে সময়। কারণ, নৃপেন্দ্র ছিলেন টেলিকম নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (ট্রাই)-এর চেয়ারম্যান। ট্রাই-এর নিয়ম অনুসারে অবসরের পর সরকারি পদ নেওয়া যায় না। বিরোধীরা এ নিয়ে শোরগোল তুললেও মোদী অনড় ছিলেন নিজের অবস্থানে। ২০১৯ সালের অগস্টে প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ ছেড়েছিলেন মিশ্র। ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণাধীন রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। চম্পতের দাবি, রামমন্দিরের নকশা ও নির্মাণ সংক্রান্ত কাজের জন্য নয়ডার একটি সংস্থা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও নৃপেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নৃপেন্দ্রের সঙ্গে ওই সংস্থার প্রধান জয় কক্তিকরের ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন চম্পত।