দুই এনসিপির মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই বুধবার রাতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সঙ্গে বৈঠক করলেন উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপির দুই নেতা প্রফুল পটেল এবং সুনীল তটকরে! ঘটনাচক্রে, ওই দুই নেতার সঙ্গে সম্প্রতি দলনেত্রী সুনেত্রার মতবিরোধ ঘটেছে বলে আলোচনা চলছে মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে। এই আবহে তিন নেতার গভীর রাতের বৈঠক নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত খবরে দাবি, মুম্বইয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘বর্ষা’য় ওই বৈঠক হয়। গোপন বৈঠক নিয়ে দলনেত্রী সুনেত্রা শুক্রবার দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রফুল ও সাংসদ সুনীলের কৈফিয়ত তলব করেছেন। জানতে চেয়েছেন, কেন তাঁকে না জানিয়ে এমন বৈঠক করা হল। যদিও দুই নেতা সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। কিন্তু সুনীল শুক্রবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দুই এনসিপির মিশে যাওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‘বল এখন শরদজির কোর্টে।’’
গত ৮ জুলাই মহারাষ্ট্র বিধানভবনে গিয়ে মহারাষ্ট্রের আর এক উপমুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এনসিপি (এসপি) প্রধান শরদ পওয়ার। যা নিয়ে সে রাজ্যের বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’র অন্যতম শরিক, উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রশ্ন তুলেছিল। এর পরে চলতি সপ্তাহে শরদের কন্যা তথা এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে ইঙ্গিত দিয়েছেন, মোদী সরকার যদি আসন পুনর্বিন্যাসের বিলে লিখিত ভাবে জানায় যে, প্রতি রাজ্যের লোকসভা আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে বাড়বে, তা হলে তাঁরা সমর্থনের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করতে পারেন। এর পরেই দুই এনসিপি-র মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়। প্রফুল এবং সুনীল দু’জনেই ‘বিজেপি ঘনিষ্ঠ’ হিসাবে পরিচিত। ফলে ফডণবীসের সঙ্গে তাঁদের ‘গোপন বৈঠক’ জল্পনায় নতুন মাত্রা এনেছে।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালে বিজেপির মদতে শিবসেনার সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ককে ভাঙিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধবকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন শিন্দে। মুখ্যমন্ত্রিত্ব দখলের পাশাপাশি উদ্ধবের প্রয়াত পিতা বালাসাহেব ঠাকরের হাতে গড়া দল শিবসেনার নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘তির-ধনুক’ও কব্জা করেছিলেন। ঘটনাচক্রে, শরদের ভাইপো অজিতও ২০২৩ সালে এনসিপির বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপির সঙ্গী হয়েছিলেন। দখল করেছিলেন কাকা শরদের হাতে গড়া দল এনসিপির নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘ঘড়ি’। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিমান দুর্ঘটনায় অজিতের মৃত্যুর পরে এনসিপি সভানেত্রী নির্বাচিত হন তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা। মহারাষ্ট্রে জোট সরকারের অন্যতম উপমুখ্যমন্ত্রীও হন তিনি। কিন্তু গত কয়েক মাসে বিভিন্ন বিষয়ে প্রফুল, সুনীল-সহ দলের প্রথম সারির নেতাদের বড় অংশের সঙ্গে সুনেত্রার মতবিরোধ ঘটেছে বলে সূত্রের খবর। এমনকি, দুই এনসিপির মিলনের প্রস্তাবেও সুনেত্রার সায় নেই বলে জল্পনা।
সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩টি থেকে বাড়িয়ে ৮১৬টিতে নিয়ে যেতে ফের সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হতে পারে বলে জল্পনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার চাইছে, এই বিল পাসে শরদ পওয়ারের এনসিপি বা ডিএমকে-র মতো দল সাহায্য করতে রাজি হলে তারা যেন লোকসভায় হাজির থেকে ভোট দিয়েই সমর্থন করে। ঘটনাচক্রে, লোকসভায় সুনেত্রার দলের একমাত্র সাংসদ হলেন সুনীল। অন্য দিকে, শরদের এনসিপি (এসপি)-র আট জন সাংসদ রয়েছেন। অন্য দিকে, সুনেত্রা এনডিএ ছাড়লেও মহারাষ্ট্রের পরিষদীয় পাটিগণিত অনুযায়ী বিজেপি-শিন্দেসেনা সরকার চালিয়ে যেতে পারবে। ফলে বিজেপির কাছে শরদের গুরুত্ব বাড়ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।