জ্ঞানেশের কুমারের ইস্তফা, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) গরমিলের অভিযোগে সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরা। পাল্টা বিজেপি-ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি চালাচ্ছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার হায়দরাবাদে পদযাত্রা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পদযাত্রা শেষে সভাও করেন। সেই সভাতেও শাহের মুখে শোনা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। এ-ও জানান, এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’! একই সঙ্গে ভোটচুরি সংক্রান্ত বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য রাহুল গাঁধীকে আবার পুরনো চ্যালেঞ্জ মনে করালেন শাহ।
রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে সমাবেশ করে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সেই মঞ্চে রাহুল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মমতা, সনিয়া গাঁধী, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী, অখিলেশ যাদব, এমএ বেবি, নেহা বোরা-সহ বিরোধী শিবিরের একঝাঁক মুখ। প্রত্যেকের মুখেই শোনা গিয়েছিল জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবি। একই সঙ্গে এসআইআর বিরোধী বক্তব্য। সেই সভা থেকে বিরোধী ‘শক্তি প্রদর্শনের’ পরের দিনই হায়দরাবাদের পথে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচিতে হাঁটলেন শাহ। পরে সভা থেকে একের পর এক আক্রমণের তির ছুড়ে দেন বিরোধীদের দিকে। তাঁর দাবি, ‘‘অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা।’’
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শাহ। তিনি দাবি করেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীরাই বিরোধীদের ভোটব্যাঙ্ক।’’ রাহুল-সহ বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এসআইআর করে ১৩ কোটি ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। সেই দাবি অসত্য বলে জানান শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘সওয়া ছ’কোটি ভোটার নতুন ঠিকানায় চলে গিয়েছেন। প্রায় তিন কোটি ভোটার মৃত। আনুমানিক এক কোটি ভোটারের নাম একাধিক বার ভোটার তালিকায় ছিল। আর বাকি তিন কোটির কোনও অস্তিত্ব নেই— তাঁরা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।’’
আরও পড়ুন:
লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুলের সমালোচনা করে শাহের দাবি, কংগ্রেস ‘ভুয়ো ভোটারদের দিয়ে নির্বাচন দখল’ করতে চায়। সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘যদি এক জনের নাম ভোটার তালিকায় দু’বার থাকে, তা হলে একটা বাদ দেওয়া কি উচিত নয়?’’ শাহের দাবি, ‘‘রাহুলবাবার মাথাব্যথার কারণ এমন তিন কোটি ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের কোনও অস্তিত্ব নেই। এঁরা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ করে ভারতে প্রবেশ করেছেন।’’
শাহের হুঁশিয়ারি, বিরোধীরা যতই চেষ্টা করুক না কেন, বিজেপি এটা নিশ্চিত করবে যাতে ভোটার তালিকায় কোনও অনুপ্রবেশকারী না থাকে। শুধু ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে দেশ থেকে তাড়াতে বদ্ধপরিকর নরেন্দ্র মোদীর সরকার। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর করে ভোটে জিতেছে বিজেপি। সেই অভিযোগের জবাবে শাহ বলেন, ‘‘আমি রাহুলজি-কে প্রশ্ন করতে চাই, ২০১৪ সালে মোদীজি জিতেছিলেন। তখন তো কোনও এসআইআর হয়নি। তা হলে কী ভাবে তখন এসআইআরের কারণে জিতলেন মোদীজি? ২০১৯ সালেও জিতেছিলেন। উনি জনগণের ভোটে জিতেছিলেন।’’
২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে শুধু নয়, তার পর থেকে রাজ্যে রাজ্যে হওয়া বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে বিজেপির জয়ের কথা উল্লেখ করেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জিতেছি। হরিয়ানায় জিতেছি। ৩০ বছর পর দিল্লিতেও জিতেছি। আমরা বিহারে জিতেছি। আর পশ্চিমবঙ্গে? দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) রাজনৈতিক শিকড় উপড়ে ফেলেছি!’’
শাহ আরও বলেন, ‘‘পুরো কংগ্রেস এবং তার বন্ধুরা এসআইআর-কে থামানোর জন্য কাজ করছে। কারণ এই অনুপ্রবেশকারীরাই ওদের ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু আমরা, বিজেপি কর্মীরা এসআইআরের পাশে দৃঢ় ভাবে আছি। শুধুমাত্র এই দেশের নাগরিকেরাই এখানে ভোট দিতে পারবেন।’’