রাজনীতির কারবারিরা বলে থাকেন, দিল্লি দখলের যাত্রাপথ উত্তরপ্রদেশ হয়ে যায়। ২০২৯-এর লোকসভা ভোটের ফল কাদের অনুকূলে যাবে, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটে তার আগাম পূর্বাভাস মিলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। লোকসভা এবং বিধানসভার আসনসংখ্যার নিরিখে দেশের বৃহত্তম রাজ্য উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটকে ‘লোকসভার সেমিফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপির শীর্ষনেতৃত্বও। তাই উত্তরপ্রদেশ জয়ের লক্ষ্যে দীপাবলির পরেই প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা।
বিজেপি সূত্রে খবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসেই উত্তরপ্রদেশ জুড়ে ত্রিস্তরীয় প্রচার শুরু করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ আর দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছেন। প্রচারের রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলেই দাবি ওই সূত্রের। প্রচারের মুখ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে মোদীকেই। মোদী, শাহ এবং নবীন— কে, কোথায় প্রচারে জোর দেবেন, তা-ও ঠিক করা হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মোদী মূলত বড় সভা করবেন। উত্তরপ্রদেশের ১৮টি প্রশাসনিক বিভাগের প্রত্যেকটিতে একটি করে সভা করতে পারেন তিনি। তুলনায় ছোট সভা করবেন শাহ। বুথ স্তরের সংগঠনের দিকেও তিনি নজর রাখবেন। বিধানসভা কেন্দ্র ধরে প্রচার করবেন নবীন। প্রতিটি বিধানসভায় দলের সাংগঠনিক কাজের উপরেও নজর রাখবেন তিনি। আর মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ জেলাওয়াড়ি প্রচারের দিকে নজর রাখবেন। প্রচারে প্রতিটি বিধানসভাকেই ছোঁয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।
চলতি সপ্তাহ থেকেই উৎসবের মরসুম শুরু হয়েছে। ধনতেরস, দীপাবলি মিটলে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে প্রচারে নেমে পড়তে চাইছে পদ্মশিবির। উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোটের মাস তিনেক আগে এই প্রচারের লক্ষ্য, দলের নিচুতলার কর্মীদের উজ্জীবিত করা, উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি এলাকার ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাওয়া। দলের বুথকর্মীদের অন্তত ৫০টি বাড়িতে গিয়ে জনসংযোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। পায়ে হেঁটে বা সভা করে জনসংযোগ করার পাশাপাশি সমাজমাধ্যমের প্রচারেও জোর দিতে বলা হয়েছে।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে শরিক দলগুলির সহায়তায় তৃতীয় বারের জন্য সরকার গঠন করলেও উত্তরপ্রদেশে ধাক্কা খেতে হয়েছিল বিজেপি-কে। সে রাজ্যের ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে মাত্র ৩৩টিতে জয়ী হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বিজেপি-কে। প্রতিদ্বন্দ্বী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) জয়ী হয় ৩৭টি আসনে। এমনকি অযোধ্যার রামমন্দির যে লোকসভা কেন্দ্রে অবস্থিত, সেই ফৈজাবাদেও এসপি-র কাছে হেরে যায় বিজেপি। ২০১৭ এবং ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য উত্তরপ্রদেশে অনায়াসেই জিতেছিল বিজেপি।
২০২২ থেকে ২০২৬— মাঝের চার বছর অবশ্য গঙ্গা-গোমতী দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। এসআইআর বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশ জুড়ে আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলির জোট ‘ইন্ডিয়া’। ‘ভোটচুরির’ অভিযোগকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এই আবহে রবিবারই দিল্লির রামলীলা ময়দানের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব দাবি করেছেন যে, ২০২৭-এর ভোটে বিজেপি উত্তরপ্রদেশ থেকে এমন ভাবে বিদায় নেবে যে, আর ফিরে আসার সুযোগ পাবে না।
প্রকাশ্যে অখিলেশের বক্তব্যকে উড়িয়ে দিলেও এসপি প্রধান যে ভাবে দলিত, সংখ্যালঘু এবং অনগ্রসর সম্প্রদায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিজের ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতে চাইছেন, তা ভাবাচ্ছে বিজেপি-কেও। পাল্টা রণকৌশল সাজাচ্ছে পদ্মশিবিরও। তাই কেবল সংগঠনের ভরসায় বসে থাকা নয়, এখন থেকে প্রচারেও ঝড় তুলতে চাইছে তারা।