মহারাষ্ট্রে এনসিপি (অজিত পাওয়ার)-র অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং একত্রীকরণ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই সোমবার সকালে প্রফুল পটেল, সুনীল তটকরে, ছগন ভুজবল, দিলীপ ওয়ালসে পাটিল, ধনঞ্জয় মুন্ডের মতো প্রভাবশালী নেতারা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করলেন। সূত্রের খবর, প্রয়াত অজিতের স্ত্রী তথা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার এবং তাঁর পুত্র তথা এনসিপির রাজ্যসভা সাংসদ পার্থ পওয়ারকে বাদ দিয়ে শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি)-র সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার ‘সম্ভাবনা’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
গত কয়েক মাস ধরেই প্রয়াত অজিতের স্ত্রী সুনেত্রার সঙ্গে প্রফুল-ছগনদের মতবিরোধ নিয়ে জল্পনা চলছে মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে। সূত্রের খবর, দলের একাংশ শরদ গোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে শামিল হওয়ার পক্ষে। কিন্তু তাতে আপত্তি রয়েছে সুনেত্রা এবং তাঁর পুত্র পার্থের। ঘটনাচক্রে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সভায় ‘বক্তৃতা বিভ্রাটের’ পরেই এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন শাহ। ওই সভায় সিপিআইএমএল লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং দলের ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’র নেত্রী নেহা বোরা দু’জনেই বক্তৃতার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু শরদ পওয়ারের কন্যা তথা এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে এবং উদ্ধব ঠাকরপন্থী শিবসেনা (ইউবিটি)-র সাংসদ সঞ্জয় রাউতকে ‘সময়ের অভাবে’ বক্তৃতা করতে দেওয়া হয়নি। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রে বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’র অন্দরে উষ্মার আঁচ মিলেছে।
প্রসঙ্গত, শরদের ভাইপো অজিত ২০২৩ সালে এনসিপির বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপির সঙ্গী হয়েছিলেন। দখল করেছিলেন কাকা শরদের হাতে গড়া দল এনসিপির নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘ঘড়ি’। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিমান দুর্ঘটনায় অজিতের মৃত্যুর পরে এনসিপি সভানেত্রী নির্বাচিত হন তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা। মহারাষ্ট্রে জোট সরকারের অন্যতম উপমুখ্যমন্ত্রীও হন তিনি। কিন্তু গত কয়েক মাসে বিভিন্ন বিষয়ে প্রফুল, ছগন, সুনীল-সহ দলের প্রথম সারির নেতাদের বড় অংশের সঙ্গে সুনেত্রার মতবিরোধ ঘটেছে বলে সূত্রের খবর। এমনকি, দুই এনসিপির মিলনের প্রস্তাবেও সুনেত্রার সায় নেই বলে জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে শাহের সঙ্গে প্রফুলদের বৈঠকে গোটা বিষয়টি ‘অন্য মাত্রা’ পেয়েছে। যদিও অজিতপন্থী এনসিপির মুখপাত্র উমেশ পাতিল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সম্ভাবনা খারিজ করে বলেন, ‘‘এই বৈঠক পূর্বনির্ধারিত ছিল। দলের অন্দরে কোনও মতবিরোধ নেই। মহারাষ্ট্রে জোটের ঐক্য নিবিড় করার লক্ষ্যেই আলোচনা হয়েছে।’’
সূত্রের খবর, সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩টি থেকে বাড়িয়ে ৮১৬টি করে মহিলা সংরক্ষণ চালুর লক্ষ্যে ফের সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার চাইছে, এই বিল পাসে শরদ পওয়ারের এনসিপি বা ডিএমকে-র মতো দল সাহায্য করতে রাজি হলে তারা যেন লোকসভায় হাজির থেকে ভোট দিয়েই সমর্থন করে। ঘটনাচক্রে, লোকসভায় সুনেত্রার দলের একমাত্র সাংসদ হলেন সুনীল। অন্য দিকে, শরদের এনসিপি (এসপি)-র আট জন সাংসদ রয়েছেন। অন্য দিকে, সুনেত্রা এনডিএ ছাড়লেও মহারাষ্ট্রের পরিষদীয় পাটিগণিত অনুযায়ী বিজেপি-শিন্দেসেনা সরকার চালিয়ে যেতে পারবে। ফলে বিজেপির কাছে শরদের গুরুত্ব বাড়ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।