Advertisement
E-Paper

‘জীবনটা ছদ্ম সংসদেই কাটাতে হবে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ নেই’! রাহুলকে নিশানা শাহের, দিল্লিতে পাল্টা মিছিল বিজেপির

চার দশক আগের শিখবিরোধী হিংসার ক্ষতের কথা স্মরণ করিয়ে এই দিনটিকে ‘গণহত্যার কালো দিন’ বলে বর্ণনা করেন শাহ। এমন একটি দিনে রাহুলদের রামলীলা ময়দানের কর্মসূচিকে ‘কংগ্রেসের জলসা’ বলে খোঁচা দেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১৮:৫৭
(বাঁ দিকে) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।

সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল অমিত শাহের পুলিশ। এ বার সেই কর্মসূচিরই দিনক্ষণ নিয়ে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’কে একহাত নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। ১৯৮৪ সালে যে দিনে শিখবিরোধী হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই দিনেই কেন বিরোধীরা এই কর্মসূচির আয়োজন করল, তা নিয়ে তোপ দেগেছেন তিনি। বিঁধেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীকেও। দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশের পাল্টা মিছিলও করেছে বিজেপি।

রবিবার যখন দিল্লির রামলীলা ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কেন্দ্রকে বিঁধছে ‘ইন্ডিয়া’, সে সময়ে চণ্ডীগড়ের জনসভা থেকে পাল্টা দিলেন শাহ। রাহুলকে তোপ দেগে বললেন, “আপনি প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলে সারাজীবন ছদ্ম সংসদেই পড়ে থাকুন। আপনার আর সুযোগ আসবে না।” শনিবারই রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গের দিল্লির বাংলোয় ছদ্ম সংসদ বসিয়েছিল ‘ইন্ডিয়া’। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ‘প্রতীকী ইমপিচমেন্ট’ প্রস্তাব ‘পাস’ করান বিরোধী নেতারা। জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ‘প্রস্তাব’ আনা হলেও আসলে তা ছিল কেন্দ্রের উপর চাপ বৃদ্ধির কৌশল। এ বার তার পাল্টা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

চার দশক আগের শিখবিরোধী হিংসার ক্ষতের কথা স্মরণ করিয়ে এই দিনটিকে ‘গণহত্যার কালো দিন’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। এমন একটি দিনে রাহুলদের রামলীলা ময়দানের কর্মসূচিকে ‘কংগ্রেসের জলসা’ বলে খোঁচা দেন শাহ। গত কয়েক বছরে কংগ্রেস যে নির্বাচনী লড়াইয়ে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে তারা হেরেই যাচ্ছে। সোনিয়াজির স্বপ্ন তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। এ বার তাই নতুন উপায় খুঁজে বের করেছেন। ছদ্ম সংসদ বসাচ্ছেন। ঠিকই আছে। আমি রাহুলজিকে বলছি, আপনি প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলে পুরো জীবন ছদ্ম সংসদেই কাটিয়ে দিন। আপনার সুযোগ কখনও আসবে না।”

বিরোধীদের কর্মসূচি নিয়ে প্রতিআক্রমণের সুর শনিবারই বেঁধে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছদ্ম সংসদ বা রামলীলা ময়দানের কর্মসূচির কথা সরাসরি উল্লেখ না করলেও বলেছিলেন, বিরোধীরা ‘দেশভাগ করার লক্ষ্যে একজোট’ হয়েছে। এ বার সেই সুরেই ‘ইন্ডিয়া’কে বিঁধে আসরে নামল পদ্ম নেতৃত্ব। রাহুলদের আক্রমণ শানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মিথ্যা কথা বলা, অশান্তি ছড়ানো এবং সংসদকে স্তব্ধ করে রাখা—এটাই আপনাদের স্বভাব।”

গত কয়েক দিন ধরেই ‘ইন্ডিয়া’র জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলনের পাল্টা কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। চলছে ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মিছিল। রবিবারও ‘ইন্ডিয়া’র বিরুদ্ধে তাদের পাল্টা মিছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। হরিয়ানার রোহতকে একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন হিমাচল প্রদেশের শিমলায়। পশ্চিম দিল্লির হরিনগর এলাকাতেও একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মলহোত্রারা।

রামলীলার সমাবেশের দিনক্ষণ নিয়ে যে প্রশ্নে শাহ বিঁধেছেন কংগ্রেসকে, দিল্লির মিছিল থেকে সেই একই প্রশ্ন তোলেন হরদীপ, রেখারাও। তাঁদের দাবি, ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গাঁধীর হত্যাকাণ্ডের পর যে শিখবিরোধী হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল, তার জন্য কংগ্রেসকে ক্ষমা চাইতে হবে।

Amit Shah Rahul Gandhi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy