উত্তরাখণ্ড দিয়ে শুরু। তার পরে একে একে বিজেপি-শাসিত আরও তিন রাজ্যে পাস হয়ে গিয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির (ইউসিসি) বিল। তোড়জোড় শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্যেও। এ বার উত্তরপ্রদেশেও ইউসিসি চালু হতে পারে! শুক্রবার উত্তরপ্রদেশে এক কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যদি জিতে আবার ক্ষমতায় আসে, তবে উত্তরপ্রদেশেও চালু হবে ইউসিসি।
উত্তরপ্রদেশে রাজ্য বিজেপির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বার্তা দেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘এ বার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে উত্তরপ্রদেশে ইউসিসি বাস্তবায়িত হবে। অনেক রাজ্যেই ইতিমধ্যেই এই বিধি চালু হয়ে গিয়েছে। আপনারা উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার গঠন করলে, আমরা ইউসিসি বাস্তবায়ন করব।’’ শুধু তা-ই নয়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে নিশানাও করেছেন শাহ। এ-ও ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী ৩০ বছর উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না অখিলেশেরা। এসপি প্রধানকে নিশানা করে শাহ বলেন, ‘‘জনগণ আপনাদের তৃতীয় প্রজন্মকেও ক্ষমা করবে না।’’
উত্তরপ্রদেশে ইউসিসি চালুর প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করেছেন অখিলেশ। নাম না করে শাহকে কটাক্ষ, ‘‘স্যার, আপনার আসতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই বিজেপি-কে হারাতে পথে বেরিয়ে আসবেন জনগণ।’’ ‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করেছেন শাহ। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর আম্পায়ারকে দোষারোপ করার মতো অবস্থা।’’ সেই প্রসঙ্গে অখিলেশ বলেন, ‘‘বক্তৃতা করে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয় না। সাধারণ মানুষই নির্বাচনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’’
আগামী বছরের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার উত্তরপ্রদেশে বৈঠকে বসেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। মন্ত্রিসভার সব সদস্য ছাড়াও রাজ্য, আঞ্চলিক এবং জেলা পর্যায়ের বিজেপি পদাধিকারীরা এই বৈঠকে ছিলেন। সেই বৈঠকের শুরুতেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি পঙ্কজ চৌধরী জানান, উত্তরপ্রদেশে বিরোধী দলের কোন নীতি বা নেতা নেই। ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিরোধীরা বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টায় রয়েছে। সেই চেষ্টা বানচাল করতে হবে। এ ছাড়াও, প্রতিটি বুথে সক্রিয় থাকার জন্য দলীয় নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন পঙ্কজ। বুথ কমিটিগুলি নিয়মিত কী ধরনের কাজ করছে, তা পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন তিনি। ভোটপ্রচারে বর্ণ, জাতি, ধর্মের ভেদাভেদের উপরে উঠে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার পরামর্শ দিয়েছেন পঙ্কজ। নেতারা যেন কর্মীদের কথা শোনেন, তা-ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুন:
দেশের মধ্যে প্রথম রাজ্য হিসেবে উত্তরাখণ্ডে চালু হয় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। তার পরে গুজরাত, অসম এবং মধ্যপ্রদেশের বিধানসভাতেও এই সংক্রান্ত বিল পাস হয়। পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান এবং ছত্তীসগঢ়েও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই রাজ্যগুলির প্রতিটিতেই বিল পেশের আগে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটপ্রচারে এসে শাহের মুখে বার বার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর কথা শোনা গিয়েছিল। প্রায় প্রতিটি জনসভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়লে চালু হবে ইউসিসি। সেই বার্তা এ বার উত্তরপ্রদেশেও দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত মাসে মুম্বইয়ে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ১২ বছরের সাফল্যের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে শাহ বলেছিলেন, আমরা তিন তালাক প্রথা তুলে দিয়েছি। এর ফলে মুসলিম মহিলারা সমানাধিকার পেয়েছেন। বেশ কিছু রাজ্যে আমরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধিও চালু করেছি। আমি নিশ্চিত, ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি এবং এনডিএ-শাসিত ২১ রাজ্যে আমরা অভিন্ন দেওয়ানবিধি চালু করে দেব।”