বদরীনাথ থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে যায় একটি যাত্রিবাহী হেলিকপ্টার। উত্তরাখণ্ডের চমোলি জেলার জোশীমঠ এলাকায় টানা বৃষ্টি এবং মেঘের ঘনঘটার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই ওই হেলিকপ্টারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। পরে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামি জানান, ওই হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়েছে।
এখনও পর্যন্ত যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে, জোশীমঠ এলাকার হাথি পর্বতের পিছনে ছায়ি গ্রামের কাছে ওই হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক কর্তা জানিয়েছেন, দুপুর ২টো ২০ মিনিট নাগাদ মারওয়ারি সেতুর কাছে জেপি পাওয়ার হাউসের অদূরে পাহাড়ের গায়ে ভেঙে পড়েছে। চালক ছাড়াও হেলিকপ্টারে পাঁচ জন যাত্রী ছিলেন। ছ’জনেরই মৃত্যু হয়েছে। দুপুর ১টো ১৪ মিনিট নাগাদ বদরীনাথ থেকে উড়েছিল। জোশীমঠের এসডিএম চন্দ্রশেখর বশিষ্ঠের কথায়, ‘‘সেনাবাহিনী এবং আমাদের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।’’
সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে ধামি লিখেছেন, ‘‘জোশীমঠের কাছে ছায়ি গ্রামের কাছাকাছি একটি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং এসডিআরএফের তরফে যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। আমি নিজে পুরো বিষয়টির উপর নজর রেখেছি। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য এয়ারলিফ্ট করার নির্দেশ দিয়েছি।’’ ওই কপ্টারে যে যাত্রীরা ছিলেন তাঁরা হলেন প্রতাপ, অরুণ, শঙ্কর গৌড়া, সুধীর কে এবং এইচ এস নটরাজ। প্রত্যেকেই বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। বদরীনাথে তীর্থযাত্রা করে ফিরছিলেন তাঁরা। মৃত তীর্থযাত্রীদের মধ্যে এক জন পুলিশকর্মী এবং আইনজীবী ছিলেন। ওই কপ্টারের পাইলটের পরিচয়ও জানা গিয়েছে। হেলিকপ্টারটি চালাচ্ছিলেন ক্যাপ্টেন হিমাংশু। তিনি দিল্লির বাসিন্দা।
প্রতিকূল আবহাওয়া, অবিরাম বৃষ্টি এবং দৃশ্যমান্যতা কম থাকার কারণে ওই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। উত্তরাখণ্ডের সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভলপমেন্ট অথারিটি একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে ওই হেলিকপ্টারটি ছিল ‘ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, ওই কপ্টারটি নিখোঁজ হয়ে যায়। জোশীমঠ উপত্যকার উপর দিয়ে ওড়ার সময় ওই হেলিকপ্টারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ট্র্যাকিং সিস্টেমেও ওই কপ্টারের গতিপথ শনাক্ত করা যায়নি।
আরও পড়ুন:
অক্টোবরের শুরুতে উত্তরাখণ্ডে দু’টি হেলিকপ্টারকে জরুরি অবতরণ করাতে হয়। একটি রুদ্রপ্রয়াগে জরুরি অবতরণ করেছিল খারাপ আবহাওয়ার কারণে। তবে অন্যটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় তেহরিতে জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হন পাইলট। দু’টিই যাত্রিবাহী হেলিকপ্টার ছিল। তবে সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের আবহাওয়ার অবনতির কারণে হেলিকপ্টার যাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যখন তখন ভারী বৃষ্টি, দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় হেলিকপ্টার চলাচল বাধার মুখে পড়ছে।