সেকেন্দরাবাদ সেনাছাউনির অস্ত্র লুটের ঘটনায় ২০ মাদ্রাজ রেজিমেন্টের একটি শাখার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ভারতীয় সেনার শীর্ষ আধিকারিকেরা। জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তেলঙ্গানা পুলিশও। অভিযোগ, অস্ত্রাগারের নথি মাসের পর মাস ঠিক ভাবে রাখা হয়নি। সেই কারণেই ওই আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
হায়দরাবাদের কাছে কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা সেকেন্দরাবাদ সেনাছাউনি থেকে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি একে-২০৩ অ্যাসল্ট রাইফেল, ৭টি পিস্তল এবং ১টি ইনসাস রাইফেল রয়েছে। এ ছাড়াও চুরি গিয়েছে ১৮০০-রও বেশি রাউন্ড গুলি-সহ এক জোড়া প্যাসিভ নাইট-ভিশন বাইনোকুলারও। এই চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে গত ৩১ অগস্ট সকাল ৭টা ৫০ মিনিট নাগাদ
২০ মাদ্রাজ রেজিমেন্টের সহায়ক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ময়াঙ্ক গোবিত্রীকর মলকাজগিরি কমিশনারেটের বোলারাম থানায় ওই দিনই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, গোলাবারুদ রাখার ঘর খোলা ও তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়ার পরই চুরির বিষয়টি নজরে আসে। ঘটনার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও চুরি যাওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের কোনও হদিস এখনও পর্যন্ত মেলেনি। তদন্তে আরও গতি আনতে গত শনিবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
আরও পড়ুন:
অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব সংক্রান্ত নথি যাচাই করে দেখা যায়, তালিকা অনুযায়ী বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উধাও এবং যে সব বাক্সে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা ছিল, সেগুলির তালা জোর করে ভাঙা হয়েছে। ৩০ অগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় শেষ বার অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব করা হয়েছিল। তার পরেই ‘কোটে’ ও ‘ব্যাটালিয়ান ম্যাগজ়িন’ বন্ধ করা হয়। ‘কোটে’ ও ‘ব্যাটালিয়ান ম্যাগজ়িন’ হল আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত দু’টি অত্যন্ত সুরক্ষিত বিশেষ সংরক্ষণাগার।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান ছিল, ৩০ ও ৩১ অগস্টের মধ্যবর্তী রাতেই চুরি হয়েছে। কিন্তু, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্র মারফত জানতে পেরেছে, ওই রাতের আগেও অস্ত্রগুলির হিসাব মেলানো সম্ভব ছিল না, কারণ ‘‘নথিপত্র ঠিক ভাবে রাখা হয়নি।’’ ফলে চুরি আরও আগে হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, ‘‘কোটে অস্ত্রাগারটি সবসময় কড়া পাহারায় থাকে। প্রহরীদের দাবি, তাঁরা জোরপূর্বক প্রবেশের কোনও ঘটনা দেখেননি। তাঁদের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই অস্ত্রাগারের নথি পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলি ঠিক ভাবে রাখা হয়নি।’’ সাধারণত অস্ত্রাগারে থাকা অস্ত্রের হিসাব প্রতি সন্ধ্যায় নেওয়ার কথা। সেই নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।