ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নির্ভর করবে সীমান্ত পরিস্থিতির উপরেই। মঙ্গলবার তা স্পষ্ট করে দিল নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে বেজিংকে ফের বুঝিয়ে দিল, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং এই সত্যকে কোনও কিছুই বদলাতে পারবে না।
অতীতে বিভিন্ন সময়ে অরুণাচলের বিভিন্ন জায়গার নিজের মতো নামকরণ করে গিয়েছে চিন। তার যথাযোগ্য প্রতিবাদও করেছে ভারত। বুঝিয়ে দিয়েছে, ওই নামকরণের কোনও গুরুত্ব নেই। এরই মধ্যে গত শুক্রবার অরুণাচলের ২৭টি এলাকাকে মানচিত্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতীয় নামে চিহ্নিত করে দিল্লি। তাতে আপত্তি জানায় বেজিং। চিনের বিদেশ মন্ত্রক সোমবার এক বিবৃতিতে ওই ভারতীয় নামকরণকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করে। এ বার তার পাল্টা দিল ভারতও।
এ দিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল স্পষ্ট করে দেন, “অরুণাচল ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং এই বাস্তব পরিস্থিতি বদলানো যাবে না।” একই সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় শান্তি বজায় রাখা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা-ও চিনকে বুঝিয়ে দিয়েছে ভারত। বস্তুত, অরুণাচলের যে ২৭টি এলাকাকে ভারতীয় নামে চিহ্নিত করেছে দিল্লি, তার মধ্যে রয়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অবস্থিত ‘লং জু’। এ অবস্থায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় শান্তি বজায় রাখার বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতির উপরেই নির্ভর করবে দু’দেশের ‘বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক’।
আরও পড়ুন:
সীমান্তবর্তী এলাকা সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত যে সব সময় চিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত, এ দিন তা-ও স্পষ্ট করে দেন রণধীর। তিনি বলেন, “আমরা সবসময়েই আলোচনার উপরে জোর দিয়ে এসেছি।”
২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছিল চিনা ফৌজ। ওই ঘটনার পর থেকে প্রায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। শেষে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজ়ানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক হয় চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের। তার পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ফের ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করে। প্রায় ছ’বছর বন্ধ থাকার পরে সদ্য সিকিমের নাথু লা, হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ দিয়ে ফের ভারত-চিন বাণিজ্যপথ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অরুণাচল প্রদেশ প্রসঙ্গে ফের আপত্তি জানায় বেজিং। তবে দিল্লিও বুঝিয়ে দিল, ওই আপত্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।