Advertisement
E-Paper

‘নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল’ তালিকা থেকে কেন বাদ যন্তর মন্তর? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে হাতিয়ার করল দিল্লি পুলিশ

মঙ্গলবার শুনানিপর্বে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) চেতন শর্মা দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অমিত মহাজনের এজলাসে যন্তর মন্তরকে ‘নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেন।

শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ২২:০১
আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা।

আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা। —ফাইল চিত্র।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কারণেই দিল্লির ‘নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল’গুলির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে যন্তর মন্তরকে। মঙ্গলবার এই দাবি করল দিল্লি পুলিশ। সেই সঙ্গে মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশের দাবি, শীর্ষ আদালতের ৯ অক্টোবরের নির্দেশ মেনেই বিকল্প তিন প্রতিবাদস্থল— মধ্য দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড চিহ্নিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানিপর্বে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) চেতন শর্মা দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অমিত মহাজনের এজলাসে যন্তর মন্তরকে ‘নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেন। দিল্লি পুলিশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিবের দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে চেতন জানান, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতেই গত ১২ অক্টোবর দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা নির্দেশে যন্তর মন্তরকে ‘বিক্ষোভের স্থান’ হিসেবে বাতিল করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সেই মন্ত্রকেরই নিয়ন্ত্রিত দিল্লি পুলিশ নির্দেশিকা দিয়েছে, যন্তর মন্তরে জ্ঞানেশ বিরোধী অবস্থান-বিক্ষোভ করতে দেওয়া হবে না ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি)। যন্তর মন্তরের বদলে রাজধানীর তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি। এ বার থেকে ওই তিন জায়গায় কর্মসূচি পালন করা যাবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির জন্য আবার অনুমতি চেয়ে সোমবার থানায় গিয়েছিলেন ককরোচ প্রতিনিধিরা। তা নিয়ে টানাপড়েনের মাঝেই ওই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসে। তার পরেই ককরোচ প্রধান অভিজীত দিপকে বলেন, ‘‘এ বার পুরো দেশই যন্তর মন্তর হবে।’’

নির্দেশিকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য নতুন যে তিনটি জায়গার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রামলীলা ময়দান পুরনো দিল্লিতে। সিবিডি মাঠ পূর্ব দিল্লিতে। বুরারি ময়দান উত্তর দিল্লিতে। মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে এই তিন মাঠ যথাক্রমে ৩ কিলোমিটার, ১৩.৫ কিলোমিটার এবং ৪৪ কিলোমিটার দূরে। চলতি বছর, ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রতিবাদস্থল হিসাবে যন্তর মন্তরকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। সেই নির্দেশিকায় বদল আনার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কংগ্রেসের যুব সংগঠনের তরফে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নতুন তিন ‘চিহ্নিত প্রতিবাদস্থলে’র মধ্যে যন্তর মন্তরের সবচেয়ে নিকটবর্তী রামলীলা ময়দানের ১২ একর জায়গায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে। এই মাঠের প্রতি দিনের ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। তার সঙ্গে সিকিউরিটি ডিপোজ়িট (নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগাম নেওয়া অর্থ) হিসেবে দিতে হবে আরও ৫৫ হাজার টাকা। এই টাকাটা অবশ্য ফেরতযোগ্য। তার সঙ্গে রয়েছে ট্যাক্স। সব মিলিয়ে খরচ ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। নির্ধারিত টাকা দিয়ে, পুলিশের অনুমতি নিয়েও যে এ বছর সেখানে বিক্ষোভ দেখানো যাবে, এমন নয়। কারণ ২০২৬ সালে মাত্র তিন দিনের জন্যই ফাঁকা রয়েছে ওই মাঠটি। বাকি সব দিনের ‘বুকিং’ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের ৯ অক্টোবরের আদেশে মূলত সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারা মেনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ককরোচদের ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে দিল্লির মেট্রো ও গণপরিবহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ ওই নির্দেশ দিয়েছিলেন। শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, সেন্ট্রাল দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকাটি প্রতিবাদের জন্য অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত প্রতিবাদকারীদের জন্য শৌচাগার, পানীয় জল এবং চিকিৎসার মতো মৌলিক পরিকাঠামো বা নাগরিক সুবিধা থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাই আদালত ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’-কে (যেমন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, দিল্লি পুরসভা ও দিল্লি পুলিশ) ওই ধরনের নাগরিক সুবিধাযুক্ত একটি ‘প্রশস্ত ও উন্মুক্ত বিকল্প স্থান’ চিহ্নিত এবং নির্ধারিত করার নির্দেশ দিয়েছিল।

সংক্ষেপে
  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
  • সিজেপির কর্মসূচিকে মাথায় রেখে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।
Delhi Police Delhi High Court Supreme Court Jantar Mantar Ramleela Maidan Burari CJP Gyanesh Kumar SIR INDIA Alliance

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy