ভারতীয় নৌসেনা অ্যাকাডেমি থেকে ধরা পড়লেন এক বাংলাদেশি নাগরিক। কেরলমের এঝিমালা নৌসেনা অ্যাকাডেমি থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার করে ভারতীয় পরিচয়ে সেখানে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করতেন ধৃত বিপ্লব সোরেন নামে পরিচিত ৩২ বছরের ওই যুবক। যদিও এটি তাঁর আসল নাম কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, গত এক বছর ধরে নৌসেনা অ্যাকাডেমিতে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন বিপ্লব। পুলিশ তাঁর কাজের ধরন নিয়ে বিস্তারিত জানায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের খবর, নৌসেনা অ্যাকাডেমির লন্ড্রি বিভাগে অস্থায়ী কর্মী হিসাবে কাজ করতেন তিনি।
সূত্রের খবর, বিপ্লব ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এ দেশে বসবাস করছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ। সম্প্রতি তাঁর আচরণ দেখে সন্দেহ হয় নৌসেনা অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষের। তার পরেই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন আধিকারিকেরা। জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে তাঁর মোবাইল থেকে এমন বেশ কিছু নথিপত্র এবং অন্য তথ্য পাওয়া যায়, যা ইঙ্গিত করে তিনি বাংলাদেশি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে শুক্রবার রাত ৮টার কিছু পরে বিপ্লবকে পুলিশের হাতে তুলে দেন নৌসেনা অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষ।
কন্নুরের এক পুলিশ আধিকারিক জানান, বিপ্লব প্রায় এক বছর ধরে নৌসেনা অ্যাকাডেমিতে কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, “বিপ্লব সোরেনই তাঁর আসল নাম কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
আরও পড়ুন:
কেরলমের এই নৌসেনা অ্যাকাডেমি দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত দিক থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কী ভাবে এক জন বিদেশি নাগরিক ভুয়ো নথিপত্র দিয়ে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। শুক্রবারের ওই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে কন্নুর পুলিশ।
বস্তুত, অবৈধবাসীদের ধরতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। অতীতে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরার মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির পাশাপাশি দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো বড় শহরগুলিতেও প্রচুর অবৈধবাসী ধরা পড়েছেন। তবে নৌসেনা অ্যাকাডেমি থেকে এই অবৈধবাসীর গ্রেফতারি ধারাবাহিক এই অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন অনেকে। এর আগে গত চার দিনে কন্নুর পুলিশ অবৈধবাসী পাঁচ বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করেছে। তাঁরাও কোনও বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে বাস করছিলেন বলে অভিযোগ।