গুরুগ্রামের বহু চর্চিত দুর্ঘটনার পর এ বার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন আহত বাইকার সিয়া। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আমি তো ওখানে মরেও যেতে পাতাম। ধাক্কা মেরে পালালেন কেন?’’
অভিযুক্ত কল্যাণ বইঁসলার কিছু বক্তব্য ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে তিনি দাবি করছেন, বাইকটির গতি কখনও বাড়ছিল, কখনও কমছিল। বাইকটি যে কোনও মহিলা চালাচ্ছেন, তা-ও তিনি জানতেন না। সোমবার বেশি রাতের দিকে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন সিয়া (তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলের নাম ‘রেবেল হুইল্স সিয়া’)। তাঁর বক্তব্য, “ভিডিয়োয় গোটা ঘটনাই ক্যামেরাবন্দি রয়েছে। সেখানে স্পষ্ট, কে কাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। যদি আপনার মনে হয় বাইকের গতি বাড়ানো-কমানো হচ্ছিল, তা হলেও আপনি আমাকে ধাওয়া করবেন কেন!”
গুরুগ্রামে তরুণী বাইকারকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা করেছে পুলিশ। বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো এবং জখম করার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় চালকের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে। পুলিশ অবশ্য ইতিমধ্যেই চালক হিসাবে কল্যাণ বইঁসলাকে শনাক্ত করেছে। যদিও অভিযুক্তের দাবি, তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে ধাক্কা দেননি। তা হলে ধাক্কা মারার পরে গাড়ি ছুটিয়ে পালিয়ে গেলেন কেন কল্যাণ— সেই প্রশ্ন তুলেছেন আহত বাইকার।
এ পর্যন্ত ওই দুর্ঘটনার দু’টি ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। কেন শুধু দু’টি ভিডিয়োই দেখা যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ। পাল্টা ‘সিয়া’ বলেন, “গাড়ি ধাক্কা দেওয়ার জন্য দুটো ভিডিয়ো কি যথেষ্ট নয়? স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ফার্স্ট লেন থেকে থার্ড লেনে এসে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাচ্ছেন। আপনি ওই সময়ে দাঁড়াননি কেন? ধাক্কা লাগার পর আমার কী অবস্থা, তা দেখা উচিত ছিল আপনার। দুই-তিন সেকেন্ড এদিক-ওদিক হলে আমার গুরুতর চোট লাগতে পারত। হাড়গোড় ভেঙে যেতে পারত। ঘটনাস্থলে মারাও যেতে পারতাম।”
অন্য দিকে, কল্যাণের আইনজীবী নবীন বইঁসলা আবার দুর্ঘটনার দায় ঠেলছেন ‘সিয়া’র দিকেই। বাইকারের ‘বেপরোয়া মনোভাব’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী। তিনি বলেন, “আপনারা মেয়েটির ভিডিয়োটা দেখুন, মেয়েটি ঘণ্টায় ১৪০-১৭০ কিলোমিটার গতিতে বাইক চালাচ্ছে। এই রাস্তা স্টান্টের জন্য নয়।” তাঁর সংযোজন, “বিতর্ক উস্কে দেওয়ার জন্য এ সব প্রচার করা হচ্ছে। ইনি এমন একজন মহিলা যিনি ফলোয়ার চান, ভিউ চান, প্রচারে থাকতে চান।”
আরও পড়ুন:
অভিযুক্তের আইনজীবী বলেন, “ভুলটা আমাদের ছিল না। আমরা আমাদের মতো যাচ্ছিলাম। মেয়েটি ডান দিকে সরে এসেছিল। আমাদের গাড়িটাও একটু বাঁ দিকে সরে গিয়েছিল। সেই কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।” জখম বাইকারের স্পোর্টস বাইকের ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে, গাড়িটি বাঁ দিক দিয়ে ধাক্কা মারে বাইকে (যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
তরুণীর অভিযোগ, দুর্ঘটনার আগে থেকেই গাড়িটি তাঁর পিছু নিতে শুরু করেছিল। গাড়ির আরোহীরাও মত্ত অবস্থায় ছিলেন বলে সন্দেহ হয় তাঁর। যদিও এই দাবি মানতে নারাজ কল্যাণের আইনজীবী। তাঁর দাবি, তাঁর মক্কেল আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করে ফিরছিলেন। কল্যাণও দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার সময়ে গাড়িতে তিনি, তাঁর বোন এবং দুই তুতো ভাই ছিলেন।
এক সংবাদমাধ্যমে কল্যাণ বলেন, “আমি পরিবারের লোকেদের নিয়ে গাড়িতে যাচ্ছিলাম। তরুণীর উদ্দেশ্যে কোনও আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করিনি। আমি শুধু তাঁকে বাইকটি আস্তে চালাতে বলেছিলাম। ধাক্কা যে লেগেছিল, তা আমি স্বীকার করছি। কিন্তু আমি যদি ওই মুহূর্তে সেখানে গাড়ি থামাতাম, তবে ওই লোকজন আমাদের মারধর করত।”